সম্প্রতি জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল করে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক প্লাস। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানিটির সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ভেনিজুয়েলার ওপর থেকে জ্বালানি তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ভাবছে বাইডেন প্রশাসন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জ্বালানি জায়ান্ট সেভরনকে লক্ষ্য করেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের চিন্তাভাবনা হচ্ছে। কোম্পানিটি ভেনিজুয়েলায় উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করত। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর দেশটি থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয় এ কোম্পানি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সূত্র জানায়, বাইডেন প্রশাসন চায়, মাদুরো সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর আলোচনা আবারো শুরু হোক এবং ২০২৪ সালের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আর এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোয় ভেনিজুয়েলার যেসব সম্পদ আটকা পড়ে আছে, সেগুলো মুক্ত করে দিতে রাজি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের এক মুখপাত্র জানান, মাদুরো সরকার যদি গঠনমূলক কোনো পদক্ষেপ না নেয় তবে নিষেধাজ্ঞা নীতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসবে না।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউক্রেনে হামলা চালানোর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করে পশ্চিমা দেশগুলো। উদ্দেশ্য ছিল দেশটির জ্বালানি তেল রফতানি খাতকে পঙ্গু করে দেয়ার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করা। ঠিক এ সময় রাশিয়ার বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। আর তখন থেকেই তেলসমৃদ্ধ ভেনিজুয়েলার প্রতি কিছুটা সদয় হতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইউরোপও রাশিয়ান জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামিয়ে আনতে চায়। এ লক্ষ্যে দেশটি থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ডিসেম্বর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত। যাতে আবারো বিশ্ববাজারে ভেনিজুয়েলা তেল সরবরাহ করতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো খুব বেশি অগ্রগতি আসেনি।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গত মাসে জানান, বিশ্ব অর্থনীতির প্রয়োজন অনুযায়ী, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজারে স্থিতিশীল ও নিরাপদভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহে ভেনিজুয়েলা তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত। 

প্রসঙ্গত, ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চলছে। মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে নিকোলাস মাদুরো সরকারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে এ নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ দেশটির অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়েছে। তবে গত বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদনে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করে ভেনিজুয়েলা।