মূল্যস্ফীতির মধ্যেই ব্যয় বাড়িয়েছেন মার্কিন নাগরিকরা। ছুটির মৌসুমে বিক্রি বেড়েছে রেস্তোরাঁ, পোশাক ও মুদিপণ্যের মতো খাতগুলোয়। শ্রমবাজারের গতিশীলতা ও মজুরি বৃদ্ধির জন্য এ বৃদ্ধি ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিবর্তন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় থাকা ব্যবসায়ীদের আশাবাদী করে তুলেছে ভবিষ্যৎ ভোক্তাব্যয় নিয়ে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস।
আর্থিক লেনদেনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান মাস্টারকার্ডের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের ২৪ তারিখ পর্যন্ত খুচরা বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। বিভিন্ন খাতে বেড়েছে ব্যয়। সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে রেস্তোরাঁ খাতে। তৈরি পোশাক খাতে বিক্রি বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এদিকে মুদিপণ্য খাতেও ঘটেছে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি।
খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, বিক্রি বেড়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে শ্রমবাজারের ইতিবাচক পরিস্থিতি ও মজুরি বৃদ্ধি। এর মধ্য দিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অর্থনীতি আগামী দিনগুলোয় চাঙ্গা থাকবে। মহামারী-পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের আনতে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক দফায় দফায় সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তার প্রভাবে বিভিন্ন দেশে প্রবৃদ্ধি ও শ্রমবাজারে শ্লথগতি দেখা দেয়। মাস্টারকার্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ মিশেল মেয়ার মনে করেন, ছুটির মৌসুমে ভোক্তাদের ব্যয় আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকেই তুলে ধরে। এখনো অর্থনীতির সম্প্রসারণ অব্যাহত।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি ব্যয় করতে সক্ষম হচ্ছে। ভোক্তাব্যয় বাড়ার পরও তাদের মধ্যে অব্যাহত রয়েছে এ প্রবণতা। তার কারণ ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মজুরিও বেড়েছে তুলনামূলক দ্রুতগতিতে। মেয়ার বলেন, ‘ছুটির দিনগুলোয় হওয়া ব্যয় প্রবণতায় এটাই প্রমাণিত হয় ভোক্তাদের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।’
ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশনের দেয়া তথ্যমতে, গত বছরে ছুটির মৌসুমে খুচরা বিক্রি বেড়েছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২১ সালে বেড়েছিল ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ২০২১ সালে।
মাস্টারকার্ডের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে অনলাইনে বিক্রি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। বিক্রি বেড়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। গত বছরে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। সার্বিকভাবে আমেরিকার অর্থনীতি স্থিতিশীল বলেই বিবেচনা করছেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও নাগরিকরা এখনো খরচ করার ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় কিছু বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টার্গেট ও ওয়ালমার্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ক্রেতারা কেনার আগে ছাড়ের ঘোষণা দেখে নিচ্ছেন। অথচ এর আগেও তারা খরচের ব্যাপারে এদিকে এত বেশি মনোযোগী ছিলেন না। মহামারী-পরবর্তী সময়ে বাজারে অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে অনেক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।
চলতি মৌসুমে সবচেয়ে কম বেড়েছে ইলেকট্রনিক, গৃহসজ্জার সামগ্রী ও খেলনার বিক্রি। যদিও ক্রিসমাসের আগে এসব খাতে ব্যাপক ছাড়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। হলিউডের প্রচারণার জেরে বিক্রি বেড়েছিল বারবি সম্পর্কিত খেলনার। অন্য খাতে বিক্রি ছিল গতিশীল। অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান থ্রিফটবুকসের বিক্রি চলতি বছরে ২৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেন গোল্ডস্টেইন বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। অনেক মানুষই তাদের ব্যয় বাড়িয়েছে।’










