পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি পরিমাণে কমেছে মার্কিন মূল্যস্ফীতি। মার্কিন সুদের হার নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করেছে, যা আগামী বছরের সুদের হার কমানো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা আরো বাড়িয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের তথ্যানুযায়ী, মূল পারসোনাল কনজাম্পশন এক্সপেনডিচার (পিসিই) সূচক নভেম্বরে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে, যা অক্টোবরের সংশোধিত ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমেছে।
নভেম্বরে মূল পিসিইর মাসিক বৃদ্ধি (অস্থিতিশীল খাদ্য ও জ্বালানি ব্যতিত) দশমিক ১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। তবে রয়টার্সের বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, এটা দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাবে।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচকও বেড়েছে। পিসিইর প্রতিবেদন প্রকাশের পরও সরকারি বন্ডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পিসিইর প্রতিবেদনে যে চিত্র প্রকাশ পায়, তাতে দেখানো সার্বিক (হেডলাইন) সূচক মাসে মাসে কমছে। তবে এ পরিমাপকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেন না। যদিও এটি জ্বালানি তেলের মতো খাতে ব্যয়ের পরিবর্তনগুলোকে প্রতিফলিত করে। তবে এ ধরনের পণ্যের দাম আবারো পরিবর্তন হতে পারে। জ্বালানি পণ্য ও সেবার দাম মাসিক ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
এ পরিসংখ্যান সেবা খাতের সামান্য অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, মূল্যস্ফীতির লড়াই কতটা কঠিন।
নভেম্বরের পিসিইর পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মূল্যস্ফীতি সামান্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একে ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্ষিক সার্বিক (হেডলাইন) পিসিই অক্টোবরে ২ দশমিক ৯ থেকে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে সেবা খাতের মূল্যস্ফীতির পরিমাণ এখনো বেশি।
অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হলেনহর্স্ট বলেন, ‘মূল মূল্যস্ফীতি এখনো দুর্বল। কারণ পণ্যের প্রধান মূল্যস্ফীতি এখনো পরিবর্তন হয়নি। আগামী মাসগুলোয়ও মূল সংখ্যা এমন নমনীয় পর্যায়ে থাকবে। তবে তা লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়। লোহিত সাগরে বাণিজ্যে বাধা মহামারী-পরবর্তী পণ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকির একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বেকারত্ব সামান্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নেমে আসবে।










