সরকারের কাছে ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা চেয়েছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নেতারা। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ১৫ এপ্রিলের পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরে বাজুস কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

সমিতির নেতারা বলেন, সম্প্রতি দেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও ব্যবসায়ীদের ওপর সরাসরি আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। তাই তারা সরকারের কাছে নিরাপত্তা দাবি করছেন।

বাজুস নেতারা জানান, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অপহরণচেষ্টা- প্রভৃতির কারণে বাড়িতেও জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ বোধ করছে না। এসব অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের হাতে জুয়েলারি ব্যবসায়ী হত্যাচেষ্টার ঘটনাও বাড়ছে।

তাই ঈদ সামনে রেখে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাজুস। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে সরকারের অধিকতর সহযোগিতা চান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাজুসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গুলজার আহমেদ, সহ-সভাপতিদের মধ্যে এম. এ. হান্নান আজাদ, মো. রিপনল হাসান, মাসুদুর রহমান, জয়নাল আবেদীন খোকন, সমিত ঘোষ অপুসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতারা ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৬ মার্চ ভোর ৫টায় বাজুসের সহ-সভাপতি ও জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান অলঙ্কার নিকেতনের কর্ণধার এম. এ. হান্নান আজাদের বাসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ছদ্মবেশী ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতদল হামলা চালায়। এ সময় তার বাসা ভাংচুর ও লুটপাট করে । এম এ হান্নান আজাদকে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়। এছাড়া, ২৪ ফেব্রুয়ারি বাজুসের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামান সুজনের ওপরও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার চেষ্টা হয়।

আরো জানানো হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের প্রায় ২৩টি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ১১টি, আশুলিয়া সাভারে ১টি, মুন্সিগঞ্জে ১টি, খুলনায় ৪টি, কুমিল্লায় ১টি, পটুয়াখালীতে ২টি, ময়মনসিংহে ১টি, সিলেটে ১টি ও হবিগঞ্জে ১টি প্রতিষ্ঠানে চুরি ও ডাকাতি সংঘটিত হয়। আশুলিয়া সাভারে ডাকাতির সময় ডাকাতদের গুলিতে একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী নিহত হন এবং বনশ্রীতে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন। বিগত এক বছরে এই চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় দেশের ২৩টি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৪ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এসব ঘটনায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন ।

জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের আলাদা দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সশস্ত্র পাহারার পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের সব জেলার জুয়েলারি মার্কেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে বাজুস।