লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) গতকাল তামার দাম কমেছে। ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়ায় অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে শিল্প ধাতুটির চাহিদা নিম্নমুখী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান মজুদ শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
এলএমইতে তিন মাস সরবরাহ চুক্তিতে তামার দাম দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৮ হাজার ৯৭৭ ডলার। অন্যদিকে সিসার দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬১ ডলার ৫০ সেন্টে নেমেছে। তবে অ্যালুমিনিয়ামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪২০ ডলার, দস্তার দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৬৫ ডলার এবং টিনের দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ২৬ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে।
সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে মার্চে সরবরাহের জন্য লেনদেন হওয়া তামার দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৬৯ হাজার ৫০ ইউয়ানে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় রোববার এলএমইতে দাম বেড়ে যাওয়ায় জের ধরে গতকাল সাংহাইয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ধাতুটি।
সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে গতকাল অ্যালুমিনিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ১৮ হাজার ৭৫৫ ইউয়ানে। দস্তার বাজারদর ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২৩ হাজার ২৮০ ইউয়ানে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া সীসার দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ১৬০ ইউয়ানে পৌঁছেছে। তবে টিনের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ২ লাখ ৭ হাজার ৮০০ ইউয়ানে নেমেছে।
গতকাল ডলারের বিনিময় মূল্য কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির খবরে বিনিয়োগকারীরা আবারো সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, আবার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মাত্রায় সুদের হার বাড়াবে ফেডারেল রিজার্ভ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চীনের সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে গত সপ্তাহের শেষ দিকে তামার মজুদ লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। গত ডিসেম্বর থেকেই প্রতি সপ্তাহে মজুদ বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা জানান, কভিড-১৯ প্রতিরোধে নেয়া সব ধরনের বিধিনিষেধ শিথিল করেছে চীন। খুলে দেয়া হয়েছে সীমান্তও। ফলে চলতি বছর দেশটির অর্থনীতিতে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী মাস থেকেই দেশটিতে তামার ব্যবহার ঘুরে দাঁড়াবে। তবে পেরু ইন্দোনেশিয়া ও পানামার মতো শীর্ষ দেশগুলোয় ধাতুটির উত্তোলন ও রফতানি কমার আশঙ্কা রয়েছে, যা ধাতুটির বাজারদরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি করতে পারে।










