২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পথে বিলাসবহুল গাড়ি বহনকারী একটি কার্গো জাহাজে আগুন ধরে। পরবর্তী সময়ে জাহাজটি ডুবেও যায়। এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলায় জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক ফক্সওয়াগন গ্রুপকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, পোরশের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) ব্যাটারি থেকে এ আগুনের সূত্রপাত। খবর নিউজ এইউ। পর্তুগাল অংশের আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝামাঝি অ্যাজোরেস দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি রুট দিয়ে যাচ্ছিল পণ্যবাহী ফেলিসিটি এইচ। ওই সময় জাহাজটিতে আগুন ধরে।
জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ হাজার ৯৬৫টি বিলাসবহুল গাড়ি বহন করে নিয়ে যাচ্ছিল ফেলিসিটি এইচ। আগুনের পর জাহাজটি অনেকটা সময় সাগরে ছিল। পরে ডুবে যায়। জাহাজে ছিল পোরশে, অডি, ল্যাম্বরগিনি, বেন্টলে, বুগাটি ও ফক্সওয়াগনসহ নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি। জাহাজটিতে ২২ জন ক্রু ছিলেন। তবে তারা কোনো ক্ষয়-ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধারকারী জাহাজে উঠতে সক্ষম হন। ওই ঘটনায় কমপক্ষে সাড়ে ১৫ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের গাড়ি সাগরে ডুবে যায়।
ওই সময় আগুনের সূত্রপাত নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য ছিল না। তবে এখন বলা হচ্ছে, এ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে পোরশে ব্র্যান্ডের গাড়ি। তদন্ত সাপেক্ষে দাবি, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি থেকে আগুনের সূত্রপাত, যা পরে পুরো জাহাজে ছড়িয়ে যায়।
এ বিষয়ে দক্ষিণ জার্মানির বাডেন-ভুর্টেমবেগের স্টুটগার্ট শহরে মামলা হয়েছে। এ শহরেই ফক্সওয়াগনের পোরশে ইউনিট অবস্থিত। বাদী হয়েছেন জাহাজের জাপানি পরিচালনা সংস্থা মিৎসুই ওএসকে লাইনস লিমিটেড ও জার্মান বীমা কোম্পানি অ্যালিয়ানজ এসই। এ অটোমেকারের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ব্রাউনসউইগে। এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ফক্সওয়াগন গ্রুপ বাদীকে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি ও কীভাবে গাড়িগুলোকে পরিবহনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে সে সম্পর্কে সঠিকভাবে অবহিত করেনি। এ কারণেই জাহাজে গাড়ি পরিবহনের সময় সমস্যা দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে আগুনের দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলাগুলো গত বছর দায়ের করা হয়েছিল। তবে প্রক্রিয়াগত কারণে বিচারের অগ্রগতি হয়নি।
ইভি নিয়ে দুর্ঘটনার এমন অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। গত বছর নেদারল্যান্ডস উপকূলে পানামায় নিবন্ধিত ফ্রেম্যান্টল হাইওয়ে জাহাজে আগুন ধরেছিল। ওই জাহাজে প্রায় চার হাজার গাড়ি ছিল। ওই ঘটনায় একজন ক্রু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। জাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান জাপানের শোই কিসেন কাইশা লিমিটেড এ আগুনের জন্য ইভিকে দায়ী করেছেন।
বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসায় বিষয়টি আমলে নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অরগানাইজেশন (আইএমও)। সংস্থাটি ইভি পরিবহনের ক্ষেত্রে জাহাজের জন্য নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে ডাচ শিপিং সংস্থা কেভিএনআর ইভি পরিবহনের জন্য বর্ধিত নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে।
বলা হচ্ছে, ইভির ব্যাটারি থেকে সৃষ্ট আগুন সাধারণ অগ্নি দুর্ঘটনার চেয়ে তীব্র হয়, এ আগুন স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ছড়িয়ে পড়ে। এমন আশঙ্কা করা হয় যে ইভির ব্যাটারির আগুন থেকে বিষাক্ত গ্যাসও নির্গত হয়। এ আগুন নির্বাপণ কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের আশঙ্কা ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সত্ত্বেও ইভিতে আগুন ধরার ঘটনা বিরল। পেট্রল ও ডিজেলের মতো সনাতনী জ্বালানিনির্ভর যানবাহনের তুলনায় বিদ্যুচ্চালিত গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা অনেক কম।










