চীন মে মাসে রাশিয়া থেকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। দৈনিক আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে। বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্যবহারকারী দেশটির পরিশোধন কেন্দ্রগুলো রাশিয়া থেকে কম দামে আমদানি অব্যাহত রেখেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, মে মাসে রাশিয়া থেকে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ বছরের এপ্রিলের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ।
চীনের বাজারে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিযোগী সৌদি আরব। ওপেক প্লাস চুক্তিতে দেশটি রাশিয়ার অংশীদার। সৌদি আরব মে মাসে চীনের বাজারে দৈনিক ১৭ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছে। এক মাসের ব্যবধানে সরবরাহের পরিমাণ ১৬ শতাংশ কমেছে।
সৌদি আরব গত বছরজুড়ে চীনের শীর্ষ জ্বালানি তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল। এ বছরের শুরুর দিকে রাশিয়া সে জায়গা দখল করে নেয়। সৌদি আরব এপ্রিলে ফের সে অবস্থানে ফিরে আসে। তবে মে মাসে রাশিয়া দেশটিকে আবারো পেছনে ফেলে।
মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের বিক্রি বাড়াতে শুরু করে রাশিয়া। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনে আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর ঘোষণা করা হয় প্রাইস ক্যাপ। এতে প্রতি ব্যারেলের মূল্য সর্বোচ্চ ৬০ ডলার বেঁধে দেয়া হয়।
পাল্টা জবাবে রাশিয়া এসব দেশে জ্বালানি তেল ও জ্বালানি পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দেয়। দেশটি এ সময় বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা আকর্ষণে দেশটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য হারে মূল্য ছাড় দেয়। আর এ সুযোগ কাজে লাগায় এশিয়ার মূল্যসংবেদনশীল ক্রেতা দেশগুলো।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানায়, চীন ও ভারত বর্তমানে রাশিয়ার প্রধান জ্বালানি তেল রফতানি গন্তব্য। মে মাসে রাশিয়া যে পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও জ্বালানি পণ্য রফতানি করেছে তার ৫৬ শতাংশই গেছে দেশ দুটিতে।
রাশিয়া এশিয়ার দেশগুলোয় আরো ক্রেতা খুঁজছে। এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ভারতও। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় রাশিয়া থেকে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ব্যাপক বেড়েছে। মে মাসেই ভারত আমদানি করেছে দৈনিক ১৯ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল।










