দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিনিময় হারের উদারীকরণ একটি ভালো পদক্ষেপ। আমরা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে চাই। পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্যের ওপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে। আমরা আরএমজিতে ফোকাস দেব।’
‘বাজেট ইনসাইটস: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ’ শীর্ষক বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি রিচার্স অ্যান্ড ইনস্টিটিউট (পিআরআই) যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
ড. মসিউর রহমান বলেন, ‘ব্যাংক একীভূতকরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকটির ঋণ দেয়ার ক্ষমতা এবং ঋণ গ্রহণের উপযুক্ততা বিবেচনায় নিতে হবে। এছাড়া ব্যাংকটির সামগ্রিক অবস্থাও বিবেচনা করতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে যখন সরকার ঋণ নেয়, সেই ঋণের ওপর আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে কিছু মুনাফা পেয়ে থাকেন। ঋণের টাকা বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় করা হয়। সেখান থেকেও সমাজে সুবিধা বিস্তার হয়।’
এনবিআরের সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, ‘করপোরেট করে অংশীদাররা সন্তুষ্ট। অগ্রিম কর পরে সমন্বয় করে পাওনা ফিরিয়ে দিতে হবে। কোন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনবে আর কোন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি সুবিধা দেবে এটা এনবিআরের পলিসি।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ড. আহসান এইচ মনসুর উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারের ঘাটতির কারণে আমদানি হ্রাস এবং রফতানি বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
তিনি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মূল্য স্থিতিশীলতা অর্জন এবং বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কঠোর মুদ্রানীতির কথা বলেন। পাশাপাশি সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে প্রশাসনিক ব্যয় এবং ভর্তুকি হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এতে ব্যাংক খাত থেকে সরকারি ঋণ সীমিত হবে বলে মনে করেন ড. আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংককে তারল্য সরবরাহ দেয়া বন্ধ করতে হবে। ব্যয় সংকোচন নীতি অনুযায়ী বাজেট থেকে আরো ৫০ হাজার কোটি টাকা ছেঁটে ফেলুন। ছেঁটে বাজেটের ঋণ প্রয়োজনীয়তাকে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটির জায়গায় ৯০ হাজারে নিয়ে আসুন। তাহলে সরকার ৯০ নেবে, ব্যক্তি খাত আরো ৯০ বা এক লাখ কোটি পাবে এতে ভারসাম্য হবে। এর সঙ্গে বলব, ব্যক্তি খাত শুধু দেশীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে বিদেশ থেকেও ঋণ নিতে পারে। আগেও তো নিয়েছে। ৪০ বিলিয়ন ব্যক্তি খাত নিয়েছে। এখন কেন বাড়ানো যাবে না। এটা করা গেলে রিজার্ভ বাড়বে।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘তারল্য সংকট বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি। এটার সমাধানও তাদেরকেই করতে হবে। কঠোর মুদ্রানীতি ও ফিসক্যাল পলিসি নিলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার ধার করছে, বেসরকারি খাত ডুবছে। সরকার বড় ধরনের ধার করছে, বেসরকারি খাতও বড় ধরনের ধার করছে। পুঁজিবাজার ধুঁকছে। ২০২৩ সালেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ধারের পরিমাণ বেড়েছে, যা প্রায় ৩ বিলিয়ন।’
আলোচনায়
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার।
আরো একটি কী নোট উপস্থাপন
করেন এমসিসিআইয়ের ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশন সাব-কমিটির চেয়ারম্যান আদিব এইচ খান প্রমুখ।










