জাপানে ওভারটাইমবিষয়ক আইনের কড়াকড়ি নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন দেশটির ওয়্যারহাউজ মালিকরা। এতে গুদামে পণ্য লোড-অনলোডের ক্ষেত্রে ফর্কলিফটচালকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে চালকবিহীন ফর্কলিফটের দিকে মনোযোগ সরিয়েছেন ওয়্যারহাউজ মালিকরা। সেই সুযোগ লুফে নিচ্ছে দেশটির সংশ্লিষ্ট খাতের কোম্পানিগুলো। খবর নিক্কেই এশিয়া।

জাপানের অন্যতম ফর্কলিফট নির্মাতা মিৎসুবিশি লজিসনেক্সটের একজন প্রকৌশলী জানান, গুদাম মালিকরা আজকাল চালকবিহীন ফর্কলিফট নিয়ে বেশি জানতে চাইছেন। প্রচলিত ফর্কলিফটের চেয়ে দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও এ আগ্রহের কারণ হলো প্রয়োজনীয় অপারেটরের অভাব। 

প্রতিবেদন অনুসারে, একটি সাধারণ মাঝারি আকারের ফর্কলিফটের দাম প্রায় ২০ লাখ ইয়েন বা মার্কিন মুদ্রায় ১৩ হাজার ৩০০ ডলার। অন্যদিকে নেটওয়ার্কিং অবকাঠামো ইনস্টলসহ চালকবিহীন ফর্কলিফটের খরচ পড়ে প্রায় দেড় কোটি ইয়েন। মিৎসুবিশি লজিসনেক্সটের কর্মকর্তা মাসাফুমি মঞ্চি জানান, আগে ওয়্যারহাউজ পরিচালকরা দামের বিষয়ে বেশি ভাবতেন। কিন্তু আজকাল বিকল্প হিসেবে চালকবিহীন যন্ত্রকে বিবেচনায় নিয়েছেন। 

আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে ওভারটাইম নিয়মের কঠোর প্রয়োগ হতে যাচ্ছে। এতে ৮ ঘণ্টার বেশি শ্রম ও ছুটি বিষয়ে ব্যত্যয় ঘটলে নিয়োগকারীরা জরিমানার শিকার হবেন। টোকিওর নীতিনির্ধারকরা ভাবছেন, এ নিয়ম শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় ভারসাম্য নিয়ে আসবে। অন্যদিকে নিয়োগকারীদের মতে, এটি লজিস্টিকস খাতে গুরুতর শ্রমের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। এ নীতির কঠোর প্রয়োগ চলতি বছর দেশটিতে ট্রাকিং ক্ষমতায় ১৪ শতাংশ ও ২০৩০ সাল নাগাদ ৩৪ শতাংশ শ্রমিক ঘাটতি তৈরি হবে। এক্ষেত্রে ওয়্যারহাউজ মালিকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হলো, চালকদের কম ঘণ্টা কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নির্ধারিত সময়ে পণ্য লোড-অনলোড সম্পন্ন করা। এ পরিস্থিতিতে চালকবিহীন ফর্কলিফট তাদের সাহায্য করতে পারে।

মিৎসুবিশি লজিসনেক্সটের চালকবিহীন ফর্কলিফট ৩৬০ ডিগ্রি ইনফ্রারেড লেজারের মাধ্যমে ফ্যাক্টরির পুরো অবস্থান পরীক্ষা করে। পথে থাকা বাধা শনাক্তকরণে ব্যবহার করে সেন্সর। অপারেটররা কন্ট্রোল রুমে বসে কার্গো চলাচলের নির্দেশ দেয়। এর মাধ্যমে একই সময়ে চালকবিহীন ২০টি ফর্কলিফট কাজ করতে পারে।

মিৎসুবিশি তাদের যন্ত্র পরিমার্জন নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য এমন একটি ফর্কলিফট তৈরি করা যা কম্পিউটার ভিশন ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে লোড-আনলোড করতে পারে। 

অন্যান্য জাপানি কোম্পানিও অটোমেশন খাতের উন্নয়নে এ চ্যালেঞ্জকে লুফে নিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ফর্কলিফট প্রস্তুতকারক টয়োটা ইন্ডাস্ট্রিজ এখন চালকবিহীন ফর্কলিফট তৈরিতে কাজ করছে। এ খাতে কম্পিউটার সিস্টেম তৈরিতে কাজ করছে ইলেকট্রনিকস গ্রুপ এনইসি। এছাড়া কিছু কোম্পানি এ প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। এ খাতে পিছিয়ে নেই চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোও। ভিশননাভ রোবোটিকস, স্ট্যান্ডার্ড রোবট ও মাল্টিওয়ে রোবোটিকসের মতো স্টার্টআপগুলো ফর্কলিফট বাজারে তাদের উপস্থিতি এরই মধ্যে জানান দিয়েছে।