বসবাসযোগ্যতার মাপকাঠিতে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শহরের তালিকা করা হচ্ছে। বরাবরের মতো এবারো বিশ্বের বাসযোগ্য শহরের একটি তালিকা করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী শহর ভিয়েনা। ৯৮ দশমিক ৪ পয়েন্ট নিয়ে এ অবস্থান অর্জন করেছে শহরটি। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো, পরিবেশসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিয়ে তালিকাটি করা হয়। চমৎকার অবকাঠামো, স্ট্যান্ডআউট সংস্কৃতি, বিনোদন এবং মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা ভিয়েনাকে তালিকার শীর্ষে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।
দি ইকোনমিস্টের সহযোগী সংস্থা ইআইইউ ২০২৩ সালের জন্য করা এ তালিকায় স্থান দিয়েছে ১৭৩টি শহরকে। তালিকায় ৩০ দশমিক ৭ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে সিরিয়ার শহর দামেস্ক।
প্রায় তিন বছর ধরে চলা কভিড-১৯ মহামারী পার হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছে বিশ্ব। কিন্তু এ সময়ে বসবাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকাটিকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক সুবিধাও উন্নত হচ্ছে। এ বছর বিশ্বব্যাপী গড় স্কোর ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদন বলছে, ভিয়েনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে ডেনমার্কের শহর কোপেনহেগেন। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে অস্ট্রেলিয়ার শহর সিডনি ও মেলবোর্ন। শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছে কানাডার তিনটি শহর—ভ্যাঙ্কুভার (পঞ্চম), ক্যালগারি (সপ্তম) ও টরন্টো (নবম)। দশম অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের শহর অকল্যান্ড। এছাড়া শীর্ষ দশের বাকি দুটি শহর সুইজারল্যান্ডের জুরিখ (ষষ্ঠ) ও জেনেভা (অষ্টম)।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় শহরগুলো সবচেয়ে উন্নত গন্তব্যগুলোর মধ্যে ছিল। বড় অগ্রগতি অর্জন করা শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে আটটিই এ অঞ্চলের। নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন ৩৫ ধাপ এগিয়ে ২৩তম স্থানে উঠেছে। যেখানে অকল্যান্ড ২৫ ধাপ উন্নতি করে দশম অবস্থানে জায়গা পেয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় শহরটি ২০ ধাপ এগিয়ে ১২৯তম স্থানে উঠে এসেছে।
ইআইইউর জীবনযাত্রার সূচকের প্রধান উপাসনা দত্ত বলেন, ‘মহামারীর পর স্বাভাবিক অবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী জীবনযাত্রার জন্য শুভ লক্ষণ। এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়নশীল অর্থনীতির শহরগুলো কিছু উল্লেখযোগ্য উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় থাকা কিছু প্রতিবন্ধকতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।’
সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইআইইউর র্যাংকিংয়ে শীর্ষ অবনমন হওয়া ১০ শহরের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাজ্যের তিনটি শহর—এডিনবার্গ, ম্যানচেস্টার ও লন্ডন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দুটি শহর—লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়াগো। অধিকাংশ চীনা শহর গত বছরের তুলনায় এ বছর সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল ছিল।
সিরিয়ার দামেস্ক ও লিবিয়ার ত্রিপোলি এ তালিকায় সর্বনিম্নে জায়গা পেয়েছে। অব্যাহত সামাজিক অস্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত শহর দুটিকে সর্বনিম্নে বসবাসযোগ্য তালিকার সর্বনিম্নে নিয়ে গেছে। ইআইইউ বিশ্বের ১৭৩ শহরকে ৩০টির অধিক গুণগত ও পরিমাণগত কারণের ভিত্তিতে পাঁচটি প্রধান শ্রেণীতে স্থান দিয়েছে। এগুলো হলো স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো ইত্যাদি। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।










