আগামী শীত মৌসুমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। ওই সময় অঞ্চলটিতে রাশিয়ান সরবরাহ আরো কমার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, জ্বালানির বাজারে যেসব প্রতিবন্ধকতা ছিল তা চলতি বছরের শুরুর দিকেই অনেকটা শিথিল হয়েছে। বিশেষ করে সরবরাহসংক্রান্ত জটিলতা কিছুটা কেটেছে। গত শীতে যে হারে চাহিদা বাড়ার কথা ছিল সে হারে বাড়েনি। অঞ্চলটির গুদামগুলোয় বর্তমানে গ্যাসের মজুদ পরিস্থিতি ইতিবাচক। মজুদ অবকাঠামোগুলোর ৯৫ শতাংশই ব্যবহার হচ্ছে। অঞ্চলটি গ্যাসের মজুদ শতভাগ পূর্ণ করার পথেই হাঁটছে।
তবে শীত মৌসুমে বাজার ফের অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইইএ। এ কারণে এখনো পূর্ণ মজুদের নিশ্চয়তা দেয়া যাচ্ছে না। সংস্থাটি জানায়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ইউরোপে রাশিয়ান গ্যাসের পাইপলাইন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। ওই সময় শীত মৌসুমও শুরু হবে। ফলে সহজেই গ্যাসের বাজার আবারো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে, যা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে ইইউর দেশগুলোয় রাশিয়ান প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাপক মাত্রায় কমে যায়। দৈনিক সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়ায় আট হাজার কোটি ঘনফুটে, যা মোট বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যের ১৫ শতাংশের সমান। ফলে ওই বছর জ্বালানির বৈশ্বিক বাজার নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়ে।
সরবরাহ সংকটের কারণে গত বছর এলএনজির বৈশ্বিক প্রবাহে ব্যাপক রদবদল দেখা দেয়। বিশ্বজুড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিতরণ ও বাণিজ্যিক ধারায় বড় পরিবর্তন আসে। ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির কারণে গ্যাস ব্যবহারকারী এবং শিল্পগুলো তাদের চাহিদা সমন্বয় করতে বাধ্য হয়।
ঊর্ধ্বমুখী দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে গ্যাসের বৈশ্বিক ব্যবহার ওই বছর প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। ২০২০ সালেও কভিড-১৯ মহামারীর কারণে একই মাত্রায় গ্যাসের ব্যবহার কমে গিয়েছিল।
আইইএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এবার শীতের তীব্রতা বাড়লে ইইউর দেশগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাসের আবাসিক ও বাণিজ্যিক চাহিদা ২০২২-২৩ হিটিং মৌসুমের তুলনায় দৈনিক তিন হাজার কোটি ঘনফুট করে বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে রাশিয়া থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ আরো কমবে। রাশিয়া আগামী অক্টোবর থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে দৈনিক অন্তত এক হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
ইইউ আগে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করত তার দুই-পঞ্চমাংশই আসত রাশিয়া থেকে। গত বছর ইউক্রেনে হামলার জবাবে দেশটির ওপর থেকে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় ইইউ। ব্লকটি এরই মধ্যে রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া জি৭ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে একজোট হয়ে আরোপ করা হয়েছে প্রাইস ক্যাপ।
এসব নিষেধাজ্ঞা ও নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনগুলোয় নাশকতার ঘটনায় ইইউ অঞ্চলে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহ রেকর্ড মাত্রায় কমেছে। বর্তমানে নরওয়ে অঞ্চলটির একক বৃহত্তম গ্যাস সরবরাহকারী দেশ।
রাশিয়ান পাইপলাইন গ্যাসের ঘাটতি পোষাতে ইইউ এলএনজি আমদানি বাড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে রাশিয়া থেকেও এলএনজি আসছে। ব্রাসেলসভিত্তিক অর্থনৈতিক থিংক ট্যাংক ব্রুগেল জানায়, রাশিয়া থেকে ব্লকটির এলএনজি আমদানি ২০২২ সালে তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ১ হাজার ৯২০ কোটি ঘটফুট।










