চলতি বছর ঘাটতির মুখে পড়তে পারে মূল্যবান ধাতু প্যালাডিয়ামের বাজার। তবে আগামী বছর এ সংকট কাটতে পারে। উদ্বৃত্তে ফিরতে পারে ধাতুটির বাজার। ওই বছর চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাবে ধাতুটির উত্তোলন ও রিসাইক্লিং। রাশিয়ান প্যালাডিয়াম উত্তোলন ও বিগলন কোম্পানি নরনিকেল সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে বিশ্ববাজারে দুই লাখ ট্রয় আউন্স প্যালাডিয়ামের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তবে আগামী বছর ঘাটতি কেটে তিন লাখ ট্রয় আউন্স উদ্বৃত্ত থাকবে। 

সম্প্রতি গাড়ি নির্মাণ শিল্পে এ ধাতুর ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। গাড়ির ইঞ্জিন থেকে কার্বন নিঃসরণ রোধে অটো ক্যাটালিস্ট তৈরিতে ধাতুটি ব্যবহার হয়। বৈশ্বিক প্যালাডিয়াম উত্তোলনের ৪০ শতাংশই সরবরাহ করে নরনিকেল। ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর পশ্চিমা দেশগুলো নিষেধাজ্ঞা দিলেও এর আওতায় পড়েনি নরনিকেল। ফলে প্রতিষ্ঠানটি প্যালাডিয়াম উত্তোলন ও বিগলনের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। 

নরনিকেল জানায়, বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ প্যালাডিয়াম ব্যবহার হয় তার ৮০ শতাংশই যায় গাড়ি নির্মাণ খাতে। এ খাত ২০২০ ও ২০২১ সালে কভিড-১৯ মহামারী এবং সরবরাহ চেইনে সংকটের কারণে বড় ধরনের ধাক্কা খায়। তবে বর্তমানে এ সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে খাতটি। ফলে চলতি বছর প্যালাডিয়ামের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।

২০২২ সাল ও চলতি বছরের এখন পর্যন্ত উত্তোলনের ‍তুলনায় বেশি ব্যবহার হয়েছে প্যালাডিয়াম। এতে বাজার ঘাটতির দিকে এগোচ্ছে। তবে গাড়ি নির্মাতা ও ক্যাটালিক সিস্টেম উৎপাদকরা পূর্ববর্তী মজুদ থেকে ধাতুটির বিক্রি বাড়ানোয় ঘাটতির মাত্রা এখনো নিয়ন্ত্রণে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ মজুদ থেকে বিক্রির পরিমাণ কমতে পারে।