ব্রাজিল থেকে জুনে সয়াবিন আমদানি বাড়িয়েছে চীন। দাম কম থাকায় ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় এবারো সবার প্রথমে ছিল ব্রাজিল। বছরের প্রথমার্ধের হিসাবেও আমদানি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এদিকে ব্রাজিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও আমদানি বেড়েছে। চীনের শুল্ক বিভাগের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, জুনে ব্রাজিল থেকে চীনের সয়াবিন আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ লাখ ৩০ হাজার টনে। গত বছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ৭২ লাখ ৪০ হাজার টন।
চলতি বছর ব্রাজিলে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন উৎপাদন হয়েছে। ফলে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় ব্রাজিলিয়ান সয়াবিনের দামও ছিল কম। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীনের ক্রেতারা দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণে সয়াবিন আমদানি করেছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত মাসে চীন সব মিলিয়ে ১ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করে। গ্রীষ্ম মৌসুমজুড়ে আমদানিতে ঊর্ধ্বমুখী ধারা জারি থাকবে।
চীন সাধারণত সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সয়াবিন আমদানি করে। চলতি বছরের ওই সময় ব্রাজিল থেকে তেলবীজটির আমদানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় নতুন মৌসুমের সয়াবিনের দাম বেড়ে যেতে পারে।
শুল্ক বিভাগ জানায়, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) চীন ব্রাজিল থেকে ২ কোটি ৯৭ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ২০ লাখ টন।
এদিকে জুনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৫৮৬ টন সয়াবিন আমদানি করে চীন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ৩২ শতাংশ কমেছে। তবে বছরের প্রথমার্ধে আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এ সময় আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার টনে।
বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের ভুট্টা আমদানি কমে ১২ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমেছে। গত বছরের একই সময় আমদানির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৭০ হাজার টন। দ্বিতীয় শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে ইউক্রেন চীনে ৫ লাখ ৬৭ হাজার টন ভুট্টা রফতানি করেছে।
জুনে চীন সব মিলিয়ে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন ভুট্টা আমদানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শস্যটির আমদানি ১৬ শতাংশ কমেছে।










