যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে। শীর্ষ শেল অয়েল (পাথরের খাঁজ থেকে উত্তোলিত তেল) উৎপাদক রাজ্যগুলো এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। তবে প্রবৃদ্ধির হার গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ৯৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হতে পারে। চলতি মাসের তুলনায় উত্তোলন বাড়বে দশমিক ১ শতাংশ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর এটিই হতে যাচ্ছে সর্বনিম্ন মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধি।
টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোয় অবস্থিত পারমিয়ান বেসিন যুক্তরাষ্ট্রের শেল অয়েল বেসিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। এ বেসিনে উত্তোলন দৈনিক এক হাজার ব্যারেল করে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দৈনিক ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে। ফেব্রুয়ারির পর এটিও হতে যাচ্ছে মাসভিত্তিক সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি।
উত্তর ডাকোটা ও মনটানা রাজ্যে অবস্থিত বাকেন প্রদেশে উত্তোলন প্রতিদিন সাত হাজার ব্যারেল করে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল, যা ২০২০ সালের নভেম্বরের পর এটি সর্বোচ্চ।
দক্ষিণ টেক্সাস ঈগল ফোর্ড অঞ্চলে উত্তোলন দৈনিক পাঁচ হাজার ব্যারেল করে কমে ১১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে নামতে পারে, এপ্রিলের পর যা সর্বনিম্ন।
বড় শেল বেসিনগুলো থেকে মোট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুট করে বাড়তে পারে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দৈনিক ৯ হাজার ৭৩০ কোটি ঘনফুটে। চলতি মাসের প্রত্যাশিত রেকর্ড উত্তোলনকেও ছাড়িয়ে যাবে এটি।
পেনসিলভানিয়া, ওহাইয়ো ও পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত সবচেয়ে বড় বেসিন অ্যাপালাসিয়ায় উত্তোলন ৩ হাজার ৫৪০ কোটি ঘনফুট করে বাড়তে পারে, যা জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বেসিনটিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬০০ কোটি ঘনফুট উত্তোলন হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি মার্চের রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আগামী মাসে রফতানি আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরবের উত্তোলন কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত এর প্রধান কারণ। এদিকে রফতানি বাড়ায় দেশটির মজুদও কমছে ক্রমবর্ধমান হারে। এরই মধ্যে মজুদ ইতিহাসের সর্বনিম্নে।
জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর নেতৃস্থানীয় সৌদি আরব। সম্প্রতি দেশটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল বা ১০ শতাংশ করে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে হিসাবে দৈনিক উত্তোলন দাঁড়াবে ৯০ লাখ ব্যারেলে। দেশটি জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সিদ্ধান্ত অব্যাহত রাখবে। পণ্যটির দাম সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দার উদ্বেগে কমে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকার জন্য ইউরোপ এবং এশিয়ার বাজারে নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকরা সৌদি আরবের কারণে ভালো দাম পাবেন বলেও আত্মবিশ্বাসী।
তথ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষক ম্যাট স্মিথ বলেন, ‘বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বৃদ্ধিতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে।’
এ বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি দৈনিক ৪৫ লাখ ব্যারেল স্পর্শ করেছিল, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। চীনের অব্যাহত জ্বালানি তেল কেনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক দাম দেশটির জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধিতে রসদ জুগিয়েছে। রফতানি যুক্তরাষ্ট্রের মোট উত্তোলনের এক-তৃতীয়াংশ স্পর্শ করেছে। যার প্রভাবে মজুদ কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন বা ৮১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।










