ইউক্রেনে কৃষিপণ্য উৎপাদন ২০৫০ সাল নাগাদ যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। এ খাতে ঘুরে দাঁড়াতে দেশটির দুই দশকের বেশি সময় লাগবে। কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিকসের সেন্টার ফর ফুড অ্যান্ড ল্যান্ড ইউজ রিসার্চের এক প্রাক্কলনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের কৃষি খাতে ৯০০ কোটি ডলার লোকসান হয়েছে, যা দেশটির ২৬ শতাংশেরও বেশি স্থাবর সম্পত্তির সমান।
দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরুর আগে ২০২১ সালে ইউক্রেন প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ হেক্টর জমিতে খাদ্যশস্য ও তেলবীজ আবাদ করে। গত বছর আবাদি জমির পরিমাণ কমে ২ কোটি ৫০ লাখ হেক্টরে নামে। শিগগিরই যুদ্ধ শেষ না হলে আবাদি জমির পরিমাণ আরো কমার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ বছর শীতকালীন শস্য বপন শেষ হওয়ার আগে সংঘাত শেষ হলেও খাদ্যশস্যের আবাদ যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। ২০৫০ সাল নাগাদ আবাদি জমির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩ কোটি ৭০ লাখ টনে।
তথ্য বলছে, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রফতানিতে ঘুরে দাঁড়াতে ইউক্রেনের আরো ২০ বছর সময় লাগতে পারে। ২০৪০ সালের মধ্যে সূর্যমুখী তেলবীজ, যব ও গম উৎপাদন ঘুরে দাঁড়াতে পারে দেশটি। ভুট্টা, রাই, জই ও সরিষা তেলবীজ উৎপাদন ঘুরে দাঁড়াতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে।
চলতি বছর রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর রুশ সেনারা দেশটির কৃষ্ণ সাগরীয় সমুদ্রবন্দরগুলো দখল করে নেয়। এ কারণে সমুদ্রপথে দেশটির খাদ্যশস্য রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। জুলাই পর্যন্ত দেশটি স্থল ও রেলপথে স্বল্প পরিমাণ খাদ্যশস্য রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতি মাসে দেশটি ৫০-৬০ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করলেও যুদ্ধের পর তা ১০ লাখ টনে নেমে যায়। এতে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা চরমে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘ ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তির উদ্যোগ নেয়। উদ্যোগ সফল হলে দেশটির খাদ্যশস্য রফতানি বাড়তে শুরু করে। তবে তা এখনো যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি। এর পর থেকে কয়েকবার চুক্তিটি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
রাশিয়া এ চুক্তি থেকে সরে আসার হুমকি দিচ্ছে। দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে খাদ্যশস্য ও সার রফতানিতে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে রাশিয়া। এসব বাধা অপসারণে কোনো ধরনের সহায়তা করা না হলে রাশিয়া চুক্তি সম্প্রসারণ করবে না।
চলতি বছর ইউক্রেনে আবারো খাদ্যশস্য উৎপাদন কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় লাফিয়ে বেড়েছে। এছাড়া রফতানি নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। খাদ্যশস্য উৎপাদন করে লাভের মুখ দেখছেন না কৃষক। ফলে আবাদে আগ্রহ কমছে।
ইউক্রেন গ্রেইন অ্যাসোসিয়েশনের (ইউজিএ) প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর ইউক্রেনে পাঁচ কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হতে পারে। গত বছর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টন। ২০২১ সালে উৎপাদন হয়েছিল ১০ কোটি ৬০ লাখ টন।










