মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ খাদ্যমূল্য পরিস্থিতি ঘিরে বড় ধরনের অস্থিরতা মোকাবেলা করতে হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে। যদিও মার্চ-এপ্রিলে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যহ্রাস খানিকটা স্বস্তি হয়ে আসে দেশটির জন্য। তবে তা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। মে মাসে পুনরায় বেড়ে যায় মার্কিন ভোগ্যপণ্যের দাম। মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও সুপারমার্কেটে ক্রমবর্ধমান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নতুন করে দুঃসংবাদ বয়ে আনছে খাদ্য ক্রয়ের সংকটে থাকা মানুষের জন্য। বিশেষ করে যারা খাবার ক্রয় করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। খবর সিএনএন বিজনেস।

ঋতুগত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে এপ্রিল-মে পর্যন্ত ভোগ্যপণ্যের দাম দশমিক ১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে জানাচ্ছে লেবার স্ট্যাটিসটিকস ব্যুরোর কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা ভোক্তা মূল্য সূচক, যা মূল্যস্ফীতির অন্যতম পরিমাপক। এ সময় রেস্তোরাঁতে মেনু আইটেমের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে এক বছর আগের তুলনায় মে মাসে ভোগ্যপণ্যের দাম ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি ছিল। গত বছরের তুলনায় মেনু আইটেমের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। বছরজুড়ে খাবারের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যা বার্ষিক ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হারকেও ছাড়িয়ে গেছে।

আবার এক বছরের ব্যবধানে কিছু খাবার অনেকটা ব্যয়বহুলও হয়েছে। মার্জারিন (মাখনজাতীয় খাবার) ২২ দশমিক ৫ শতাংশ, ময়দা ১৭ দশমিক ১, ব্রেড বা রুটি ১২ দশমিক ৫ ​ও চিনির দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ১ শতাংশ। জুস ও অন্যান্য নন-অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ, লেটুস ৯ দশমিক ৪, হ্যাম (মাংসজাতীয় খাবার) ৮ দশমিক ২ ও আইসক্রিমের দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে।

খাবারের মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে বিভিন্ন কারণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যার মধ্যে অন্যতম চরম আবহাওয়া, ইউক্রেন যুদ্ধ, এভিয়ান ফ্লু ও সাপ্লাই চেইনের উচ্চ খরচের মতো কারণ। তবে খাদ্যবিক্রেতারাও উল্লিখিত কারণগুলোকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে খাবারের দাম বাড়িয়েছেন। তবে ভোক্তারা কম পরিমাণ পণ্য কিনলেও খাদ্য বিক্রি বেড়েছে। তাই খাদ্যপণ্যের মূল্য আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে বা অচিরেই কমার সম্ভাবনা নেই।

তবে গত বছর থেকে কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দামে খানিক স্বস্তি চিহ্নিত করা হয়। যেমন এক বছরের ব্যবধানে বেকন ৯ দশমিক ৮ শতাংশ, লেবুজাতীয় ফল ৫ দশমিক ৩, দুগ্ধ ৩ দশমিক ৪, শূকরের মাংসের চপ ২ দশমিক ২ এবং মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।

তাছাড়া এপ্রিল-মে পর্যন্ত ভোগ্যপণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে বাড়লেও বেশ কয়েকটি স্বতন্ত্র পণ্যের দাম কমেছে। যেমন ডিম। পণ্যটির দাম চলতি বছরের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও গত মাসে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা ১৯৫১ সালের জানুয়ারির পর থেকে সবচেয়ে বড় একক-মাসের মূল্যহ্রাস।