টানা তিন বছর ধরে জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার ১০টি ধনী দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। কারণ ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) তার সুদহার কমিয়ে রাখার নীতি বজায় রেখেছে, যদিও অন্যান্য দেশ সুদহার বাড়িয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

২০২৩ সালে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। শুক্রবার ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার প্রায় ১৪১ দশমিক ৪০ ইয়েন ছিল। চলতি বছর গড় বিনিময় হার ডলারপ্রতি ছিল ১৪০ ইয়েন, যা ১৯৯০ সালের পর ইয়েনের জন্য সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান।

অন্যদিকে সুইস ফ্রাঁ ১০টি ধনী দেশের মধ্যে সেরা বিনিময় হার ধরে রেখেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্রিটিশ পাউন্ড ও ইউরো। নিক্কেই কারেন্সি ইনডেক্স অনুযায়ী ইয়েনের অবস্থান সর্বনিম্নে ছিল।

বিওজে মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে এমন প্রত্যাশায় প্রাথমিকভাবে বিদায়ী ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ইয়েনের বিনিময় হার কিছুটা বেড়েছিল। কিন্তু বিওজে জানুয়ারির বৈঠকে সুদহার অপরিবর্তিত রাখে। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আসন্ন সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি মনোযোগী হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ানো অব্যাহত রাখবে বলে আশা করা হয়েছিল। ফলে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বেড়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র-জাপান সুদহারের পার্থক্যকে আরো বাড়িয়েছে।

টোকিওর ওজোরা ব্যাংকের চিফ মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট আকিরা মোরোগা জানান, নভেম্বরে ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার ছিল ১৫২ ইয়েন, যা ৩৩ বছরের সর্বনিম্ন। বিনিময় হার কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা কম সুদে ইয়েনে ঋণ নিয়ে অন্যান্য মুদ্রায় বিনিয়োগ করেছেন।

মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্যের পরিমাণসহ অন্যান্য কারণে আগস্টে সর্বকালের সর্বনিম্নে নেমে আসে ইয়েনের প্রকৃত বিনিময় হার। ১৯৭০ সালের তুলনায় এটি প্রমাণ করে যে জাপানি জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কতটা কমেছে। ওই সময় ডলারের বিপরীতে ইয়েনের একটি নির্দিষ্ট বিনিময় হার ঠিক করা ছিল।

আগামী বছর ফেড ও ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) সুদহার কমাতে পারে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি একই সঙ্গে বিওজে শূন্য সুদহার নীতি পরিবর্তন করতে পারে। বেশির ভাগ বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন যে ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার পুনরুদ্ধার করবে ইয়েন।