নানা পদক্ষেপের পরও যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা বেড়েই চলছে। দেশটিতে ২০২২ সালে ৩৮২ কোটি ডলার বিনিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে সংখ্যাটি ছিল ১৬০ কোটি ডলার। অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্য জালিয়াত চক্র ব্যবহার করছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। সম্প্রতি এফবিআই ও ফেডারেল ট্রেড কমিশনের তথ্য পর্যালোচনা করে এমনটাই দাবি করেছে আইনি প্রতিষ্ঠান কার্লসন ল। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ। 

কার্লসনের গবেষণায় বিবেচনা করা হয়েছে জালিয়াতির ঘটনায় অর্থ হারানো ভুক্তভোগীর মোট সংখ্যা, ভুক্তভোগীর গড় অর্থ হারানোর পরিমাণ ও বিনিয়োগ প্রতারণার সর্বোচ্চ হার। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে ২৫৭ কোটি ডলার জালিয়াতির কবলে পড়ে কেবল ক্রিপ্টো-বিনিয়োগে। পনজি স্কিম, পিরামিড স্ক্যাম ও আবাসন খাতের মতো জালিয়াতির ঘটনাও রয়েছে। সার্বিকভাবে অর্থ ব্যবস্থায় জালিয়াতির ঘটনা বাড়লেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি। জালিয়াত চক্রও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে কৌশল হিসেবে। আধুনিক সময়ে বিনিয়োগে প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ মাধ্যম ছিল ডিপ ফেক প্রযুক্তি, ভয়েস ক্লোন করা, ক্রিপ্টোর প্রাথমিক আকর্ষণীয় অফারের প্রলোভন, ছাড়ে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির প্রস্তাব ও পনজি স্কিম।

এফবিআই দাবি করেছে, সব বয়সের মানুষই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় রয়েছে। তবে বিনিয়োগের ঘটনায় ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীরা ছিল জালিয়াত চক্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে। 

যদিও অর্থনৈতিক উপদেষ্টার বেশে জালিয়াতি করে যাওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা কমেছে। ২০২১ সালে অভিযুক্তের সংখ্যা ৭৪৪ হলেও ২০২২ সালে সংখ্যাটি ৬৯৯। জালিয়াত হওয়া অর্থের বিচারে এগিয়ে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া। গত বছরে ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার হারিয়েছে মার্কিন অঙ্গরাজ্যটি থেকে। নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে গড়ে প্রতি জন হারিয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৪৪৭ ডলার। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রতি ১ লাখ ব্যক্তির মধ্যে ২৬ জনই বিনিয়োগ জালিয়াতি ঘটনার ভুক্তভোগী।