বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) খরচের অর্ধেক ব্যাটারিসংশ্লিষ্ট। অনেক সময় ব্যাটারি প্রতিস্থাপনের ব্যয় দিয়ে এক বছরের পুরনো গাড়ি কেনা সম্ভব। এ ব্যাটারি তৈরিতে এগিয়ে চীন। তাদের টেক্কা দিতে বাজারে কম দামে ব্যাটারি আনার কথা ভাবছে দক্ষিণ কোরিয়া। খবর রয়টার্স।
এরই মধ্যে বৈচিত্র্য আনতে স্বল্পমূল্যে চালকবিহীন গাড়ির ব্যাটারি বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাতারা। মূলত আগ্রহী ক্লায়েন্টদের চাপের কারণে এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন কোরিয়ান প্রস্তুতকারকরা।
তবে এলজি এনার্জি সলিউশন, এসকে অন ও স্যামস্যাং এসডিআইয়ের মতো কোম্পানির ব্যবসায়িক কৌশলের সঙ্গে জড়িত একাধিক নির্বাহী ও কর্মকর্তা জানান, চীনের লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (এলএফপি) ব্যাটারির সঙ্গে সম্পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। কারণ দামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা এখনই সম্ভয় নয়।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে যারা দুই বছর আগেও শুধু ইভির জন্য নিকেলভিত্তিক লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি তৈরি করত, তারাও সস্তা নিকেলভিত্তিক ব্যাটারি তৈরি করতে চাচ্ছে না।
দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাটারি নির্মাতারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন, অধিক জ্বালানি ঘনত্বের কারণে নিকেলভিত্তিক ব্যাটারিগুলো বেশি ভালো, যা দীর্ঘ ড্রাইভিং রেঞ্জ প্রদান করে। এছাড়া এগুলো আকারে ছোট এবং ওজনে হালকা। কিন্তু বিশ্বব্যাপী গাড়ি নির্মাতারা এখন তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে এলএফপি ব্যাটারি তৈরির জন্য।
এ প্রতিবেদন তৈরির সময় ব্যাটারি শিল্পের ছয়টি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। তবে গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এর মধ্যে তিনটি কোম্পানির কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, তারা এলএফপি ব্যাটারি তৈরির পরিকল্পনা করেছিল, যা জ্বালানি ঘনত্ব ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বিদ্যমান পণ্যগুলোর চেয়ে ভালো।
কোরিয়ার একটি প্রধান ব্যাটারি প্রস্তুতকারক কোম্পানির নির্বাহী বলেন, ‘চালকবিহীন গাড়ির গ্রাহক জানান, তারা আমাদের ফার্ম থেকে ব্যাটারি কিনতে চান। তাদের ছোট গাড়ির জন্য এলএফপি ব্যাটারি এবং প্রিমিয়াম গাড়ির জন্য নিকেল ব্যাটারি দরকার।’
স্যামস্যাং এসডিআই জানায়, পণ্য নকশার মাধ্যমে এবং প্রক্রিয়া ও সুবিধা উন্নতির মাধ্যমে তারা এলএফপি খরচের প্রতিযোগিতায় নামার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্লেষকরা জানান, নিকেল ব্যাটারির তুলনায় চীনা প্রস্তুতকারক সিএটিএল ও বিওয়াইডির এলএফপি ব্যাটারিগুলো প্রায় ২০ শতাংশ সস্তা।
এদিকে গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো শুধু খরচ কমানোর ক্ষেত্রেই আগ্রহী নয়। বাইডেন প্রশাসনের মূল্যস্ফীতি হ্রাস নীতির অধীনে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির ওপর দেয়া ভর্তুকির সুবিধাও নিতে চান তারা। এক্ষেত্রে বাড়াতে চান বিক্রি।










