রফতানির পরিমাণ কমলেও বাড়তি দামের কারণে কফি বিক্রি থেকে আয় বাড়ছে ভিয়েতনামের। চলতি বছর জুনের প্রথমার্ধ পর্যন্ত কফি রফতানি থেকে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে দেশটি। মৌসুম শেষে এ আয় ৪৫০-৫০০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর ভিয়েতনাম প্লাস।
ভিয়েতনামের জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব কাস্টমসের (জিএসও) তথ্যমতে, চলতি বছর জুনের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ৮ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টন কফি রফতানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। তবে মূল্য হিসাবে গত বছরের তুলনায় রেকর্ড ৩৮ শতাংশ বেশি।
চলতি বছরের মে মাসে ভিয়েতনামের কফির গড় রফতানি মূল্য টনপ্রতি ৪ হাজার ২৭৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা এপ্রিলের তুলনায় ১৪ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি।
এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটির কফির গড় রফতানি মূল্য ৩ হাজার ৪৭৫ ডলারে পৌঁছেছিল, যা আগের বছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। তাছাড়া চলতি মাসের প্রথম দিকে ভিয়েতনামের স্থানীয় বাজারেও রোবাস্তা কফির দাম মে মাসের শেষ দিকের তুলনায় বেড়ে গিয়েছিল।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছর জুনের প্রথমার্ধ পর্যন্ত ১২ লাখ টন কফি রফতানি করেছে দেশটি। দাম বাড়ায় রফতানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এসেছে। ভিয়েতনামের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, বর্তমানে দেশটি কফির অভ্যন্তরীণ মজুদের পরিমাণ খুব সামান্য।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কফি রফতানিকারক ভিয়েতনাম। চলতি বছর ভিয়েতনামে দীর্ঘ সময় ধরে গরম আবহাওয়া ও খরা ছিল। ফলে রফতানির পরিমাণ বাড়লেও দেশটির রফতানিযোগ্য কফির উৎপাদন কমে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক গরম আবহাওয়া আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলের কফি চাষের উঁচু জমিগুলো খরার কবলে পড়বে। ফলে বিরূপ আবহাওয়ায় কফি উৎপাদন কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী শস্য মৌসুমে এটি প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
দ্য ভিয়েতনাম কফি অ্যাসোসিয়েশন (ভিকোভা) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কফির দাম আরো বেড়েছে। ফলে রফতানির পরিমাণ কমলেও মোট রফতানি আয় বাড়ছে। সংগঠনটির পূর্বাভাস অনুসারে, ভিয়েতনাম এ বছর কফি রফতানি থেকে ৪৫০-৫০০ কোটি ডলার আয় করতে পারে।










