থাইল্যান্ডে ডলারের বিপরীতে বাথের বিনিময় হার বেড়েছে। এ কারণে চলতি সপ্তাহে দেশটিতে বেড়েছে চালের দাম। ভোগ্যপণ্যটির দাম বেড়ে দুই মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে চালের সরবরাহ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স, বিজনেস রেকর্ডার।
থাইল্যান্ডে গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৫৭০ ডলার। চলতি সপ্তাহে তা বেড়ে টনপ্রতি ৫৮০ ডলারে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাথের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ার কারণে থাইল্যান্ডে চালের দামের এমন পরিবর্তন হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, এর আগের অর্ডারগুলোর সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশে বেশ কয়েকদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার। চলমান বন্যার কারণে উৎপাদন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ উদ্বেগে সামনের দিনগুলোয় দাম আরো বাড়তে পারে।
ভিয়েতনামে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের চলতি সপ্তাহে দাম ছিল টনপ্রতি ৫৭৮ ডলার। দেশটিতে এ সময় গত সপ্তাহের তুলনায় স্থিতিশীল ছিল চালের দাম। এ বিষয়ে মেকং অববাহিকার আন গিয়াং প্রদেশের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির আগে দেশে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ কমেছে।’
বিশ্বব্যাপী চালের শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ভারত। দেশটিতে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ ভাঙা সিদ্ধ চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৫৪০-৫৪৫ ডলার, যা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় স্থিতিশীল।
দিল্লিভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, কয়েক মাস আগেও ভারতে চালের দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় সস্তা ছিল। বর্তমানে এতে টনপ্রতি ১০-৩০ ডলারের মতো পার্থক্য হয়েছে। ফলে ক্রেতারা অন্যান্য বিকল্প খুঁজছেন।
অন্যদিকে ভারতে ব্যবসায়ীদের জন্য কৃষকের কাছ থেকে নতুন মৌসুমের ধান ক্রয়ের মূল্য আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ১০০ কেজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০ রুপি।
ইন্দোনেশিয়ার প্রধান খাদ্যপণ্য চাল। সম্প্রতি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে ধান আবাদ কমেছে। এতে অভ্যন্তরীণভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে চালের দাম। অভ্যন্তরীণ দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভোগ্যপণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় ক্রয় সংস্থা বুলোগ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন চাল ক্রয়ের জন্য নতুন একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র জারি করেছে।
ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) চলতি বছর বৈশ্বিক চাল উৎপাদনের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে। আগের পূর্বাভাস থেকে ৪ লাখ ৬৪ হাজার টন চাল কম উৎপাদন হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা। তবে সংশোধনের পরও ২০২৪-২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছে ইউএসডিএ।
ইউএসডিএর রাইস আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ সালে বৈশ্বিক চাল উৎপাদনের পূর্বাভাস কমিয়ে ৫২ কোটি ৭৭ লাখ টন করা হয়েছে।










