ভারত বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক।
কিন্তু চলতি বছর দেশটির আমদানি কমে ছয় বছরের সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে।
মূলত নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব ও ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোজ্যতেলের চাহিদায় টান পড়েছে।
এ কারণেই দেশটির আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
খবর নাসডাক ও রয়টার্স।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, টানা দুই বছরের মতো আমদানি হ্রাসের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।
ভারতের আমদানি কমে এলে মালয়েশিয়ার অপরিশোধিত পাম অয়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।
একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জানায়, ভারতে প্রতি বছরই বাড়ছিল ভোজ্যতেলের ব্যবহার।
কিন্তু গত বছর মহামারীর কারণে হঠাৎ করেই ব্যবহারের পরিমাণ হ্রাস পায়।
ওই বছরের ৩১ অক্টোবর সর্বশেষ বিপণন মৌসুম শেষ হয়েছে।
এ সময় দেশটি ২ কোটি ১০ লাখ টন ভোজ্যতেল ব্যবহার করে।
এর আগের বিপণন মৌসুমে ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ টন।
সলভেন্ট এক্সট্র্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক বিভি মেহতা বলেন, ভোজ্যতেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।
ভবিষ্যতে আরো বাড়বে।
ফলে চলতি মৌসুমে চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
মেহতা আরো বলেন, চলতি বিপণন মৌসুমে ভারতে ভোজ্যতেল আমদানি কমে ১ কোটি ৩১ লাখ টনে নেমে আসতে পারে।
এটি হবে ছয় বছরের সর্বনিম্ন আমদানি।
গত মৌসুমে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩২ লাখ টন।
ভারত ভোজ্যতেল আমদানিনির্ভর দেশ।
স্থানীয় চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশই আসে আমদানি থেকে।
ভারতে প্রধান পাম অয়েল সরবরাহকারী দেশ হলো ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া।
এছাড়া সয়াবিন ও সূর্যমুখীসহ অন্যান্য ভোজ্যতেল আসে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে।
মেহতা বলেন, সব ধরনের ভোজ্যতেল আমদানি কমলেও শুধু পাম অয়েল আমদানি বাড়তে পারে।
চলতি মৌসুমে ভারত ৭৮ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করবে।
গত মৌসুমের তুলনায় আমদানি ৮ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত চলতি বছর পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানির অনুমতি দিয়েছে।
পাশাপাশি পণ্যটির আমদানি শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে।
ভারতের আমদানি হ্রাসের পেছন উৎপাদন বৃদ্ধিকেও দায়ী করেন মেহতা।
তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে ভারতের ভোজ্যতেল উৎপাদন ১০ লাখ টন বেড়ে ৯০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।










