আগামী আর্থিক বছরে (১ এপ্রিল শুরু) প্রায় ১০ শতাংশ ঋণপত্র বিক্রি কমানোর পরিকল্পনা করছে জাপান। ঋণের বোঝা কমানোর উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দেশটি। খবর ইয়াহু ফাইন্যান্স।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় বাজারে ১৭১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের (১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার) ঋণ ইস্যু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এতে ২০ বছর মেয়াদি বন্ড ও ছোট নোট কমানোর সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে টানা চতুর্থ বছরে ঋণপত্র বিক্রি কমতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্যানুসারে, সাধারণ সরকারি ঋণ কমানোর চেষ্টা করছে জাপান, যা দেশটির অর্থনীতির ২৫৫ শতাংশের সমান। ২০২০ সালে কভিড মহামারী চলাকালে বন্ড বিক্রির উল্লম্ফন দেখা যায়। পরের বছরগুলোয় বিক্রি কমিয়ে দেয় দেশটির সরকার। আগামী আর্থিক বছরের পরিকল্পিত ইস্যু ২০২০ সালের পূর্বের স্তরের ওপরে রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছর নেতিবাচক সুদের হার নীতি থেকে বেরিয়ে আসবে ব্যাংক অব জাপান। এতে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশায় বন্ডের চাহিদার ওপর চাপ বাড়াবেন বিনিয়োগকারীরা।
মিজুহো সিকিউরিটিজ কোম্পানির ফিক্সড ইনকাম ট্রেডিং বিভাগের চিফ ডেস্ক স্ট্রাটেজিস্ট চোকি ওমোরি বলেন, ‘জাপানিজ গভর্মেন্ট বন্ড (জেজিবি) ইস্যু কমানোর পরিমাণ প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ রয়েছে। চাহিদা থাকায় ২০ বছর মেয়াদি বন্ড সবসময় অতিরিক্ত সরবরাহ করা হয়।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য ছিল ২০ বছরের বন্ড ও নোটের বিক্রি চলতি বছর ১৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইয়েনের প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে ১২ ট্রিলিয়ন ইয়েনে কমিয়ে আনা। মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, এটি চলতি বছর ১৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ইয়েনে কমেছে।
নতুন প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুসারে, ১০ বছর মেয়াদি নোটের বিক্রি এ বছরের প্রাথমিক লক্ষ্য ৩২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন থেকে ৩১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েনে কমে যাবে। দুই বছর ও পাঁচ বছরের বন্ড ইস্যু করার পাশাপাশি এক বছরের ট্রেজারি বিলও কমানো হবে। যদিও এ আর্থিক বছরে ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বিপরীতে ছয় মাসের বিল বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই।
মন্ত্রণালয় আগামী ফেব্রুয়ারিতে কার্বন হ্রাস প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন ঋণ বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। বর্তমানে ২০২৪ আর্থিক বছরে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন জলবায়ু পরিবর্তন বন্ড ইস্যু করার পরিকল্পনা করছে।
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রাথমিক ডিলার ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করে সম্ভাব্য বন্ড বিক্রি হ্রাসের ইঙ্গিত দিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, সরকারের উচিত ২০ বছর মেয়াদি ঋণ ইস্যু কমানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া। এর চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে। আবার কেউ কেউ মত দেন, স্থিতিশীল চাহিদার কারণে ৩০-৪০ বছর মেয়াদি বন্ডের বিক্রয় অব্যাহত রাখা উচিত।










