চীনে চলতি বছর ইস্পাত রফতানি বেড়ে সাত বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও প্রতিযোগিতামূলক দাম রফতানি বাড়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। খবর রয়টার্স। 

বিশ্লেষকরা জানান, চীনের স্থানীয় বাজারে বর্তমানে ইস্পাতের চাহিদা কম। উদ্বৃত্তে আছে ধাতুটির বাজার। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা দেশটিকে রফতানি বাড়াতে সহায়তা করছে। 

চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক। এক মাস ধরে বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে দেশটির আবাসন খাত। ফলে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে ইস্পাত শিল্পে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় মে মাসে ধাতুটির দাম তিন বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। 

তবে এশিয়া ও আফ্রিকার বেশির ভাগ দেশে শক্তিশালী চাহিদা চীনের ইস্পাত খাতের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকলেও কারখানাগুলো তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সক্ষম হচ্ছে। 

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে চীনের ইস্পাত রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে বলে জানায় দেশটির শুল্ক বিভাগ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের ইস্পাতের চাহিদা লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। 

চীন ২০২২ সালে ৬ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার টন ইস্পাত রফতানি করেছিল। এ বছর রফতানি তার চেয়েও বেশি হতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন কয়েকজন বিশ্লেষক। তাদের মতে, এ বছর রফতানির পরিমাণ ৭ কোটি ৭০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। 

আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এফআইএসের সাংহাইভিত্তিক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পেই হাও বলেন, ‘‌ইস্পাত রফতানি বেড়ে যাওয়ার প্রত্যক্ষ কারণ চীনের মুদ্রা ইউয়ান। মুদ্রাটির অবমূল্যায়ন ঘটায় রফতানিকারকরা বেশ ভালো সুবিধা পেয়েছেন। বর্তমানে রফতানি মূল্যও আকর্ষণীয়। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইউয়ানের বিনিময়মূল্য ডলারের বিপরীতে ৫ শতাংশ কমেছে। 

চীনের শুল্ক বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে, চলতি বছরের মে মাসে দেশটি ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টন ইস্পাত রফতানি করে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই সবোর্চ্চ রফতানি। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭০ কোটি ডলারে। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ইস্পাতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন ব্যয়ের কারণে এসব দেশের কারখানা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। উৎপাদনের বদলে চীন থেকে আমদানিতে কম খরচ হচ্ছে। 

চলতি বছরের শুরুর দিকে চীন কভিড-১৯ সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়। খুলে দেয়া হয় সীমান্ত। ফলে বিভিন্ন দেশে চীনের অর্থায়ন করা প্রকল্পগুলোর অবকাঠামো নির্মাণ ঘুরে দাঁড়ায়। বিষয়টি রফতানি বাড়াতে রসদ জুগিয়েছে। 

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইস্পাতের আমদানি শুল্কও ছিল কম। ফলে ব্যবসায়ীদের জন্য রফতানি ধারা অব্যাহত রাখা সহজ ছিল। তারা ক্রমবর্ধমান মজুদ খালি করতে সক্ষম হয়েছেন। 

বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মাইস্টিল জানায়, গত ২১ জুন পর্যন্ত প্রধান প্রধান ইস্পাত পণ্যের মজুদ ছিল ১ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার টন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় যা সবচেয়ে কম।