তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গতকাল ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত ‘কল্যাণরাষ্ট্রের পথে সরকারের প্রথম বাজেট: সামাজিক সুরক্ষার ভূমিকা কতটুকু?’ শীর্ষক সংলাপে অর্থনীতিবিদ ও নীতি বিশ্লেষকরা এ তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাজেটে বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতা, বৈষম্য ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক মূল্যায়ন করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এখনো বাংলাদেশের নেই। করের আওতা ও রাজস্ব ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না করে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। ‘তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং গিনি সহগ ০.৪৯৯। এ বাস্তবতায় সীমিত সম্পদের কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কেবল ব্যয় বাড়িয়ে কল্যাণরাষ্ট্রের কার্যক্রম সম্প্রসারণ সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ‘কল্যাণরাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ। এর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ আমাদের কর্মসংস্থানের গতি অনেক ধীর। যে কারণে দক্ষ কর্মীরাও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত অগ্রগতি এখনো ভঙ্গুর; সামান্য অর্থনৈতিক ধাক্কায়ও তা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। কল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা এখনো সীমিত। তাই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে একই ব্যক্তি বা পরিবারকে একাধিকবার সুবিধা দেয়ার প্রবণতা কমিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাসরুর। তিনি বলেন, ‘বাজেট এলে ট্যাক্স নিয়ে আলোচনা হয়। আমরা ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাতের কথা অনেকদিন ধরে বলে আসছি। ট্যাক্স আহরণ ও ট্যাক্সের আওতা বাড়ানোর কথা বলছি। কিন্তু দেখতে হবে প্রান্তিক, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর ট্যাক্স চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে কিনা।’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সাবেক কর ব্যবস্থাপক শরীফ আহম্মদ চৌধুরী।









