মে মাসে চীনের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন এক বছর আগের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনান প্রদেশে বিদ্যুতের সংকট চললেও বেশির ভাগ অঞ্চলে অ্যালুমিনিয়ামের উৎপাদন ছিল স্থিতিশীল। খবর রয়টার্স।
ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের দেয়া উপাত্ত অনুসারে, বিশ্বের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক গত মাসে ৩৪ লাখ ২০ হাজার টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করেছে। এটি এক বছরের আগের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ বেশি৷।
রয়টার্সের একটি গণনায় দেখা যায়, মে মাসে দৈনিক উৎপাদন ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৩২৩ টন, যা আগের মাসের দৈনিক উৎপাদন ১ লাখ ১০ হাজার টন থেকে সামান্য বেশি। মে মাসে পূর্বাঞ্চলীয় শানডং প্রদেশ, উত্তর জিনজিয়াং ও অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়া, যা দেশের মোট ক্ষমতার অর্ধেকের বেশি, উচ্চমুনাফা অর্জনের সময় উচ্চ উৎপাদন হার বজায় রেখেছে।
পূর্বাঞ্চলীয় শ্যানডং প্রদেশ, উত্তর জিনজিয়াং ও অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়া মিলে দেশের মোট উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি করে। ফলে উৎপাদনের উচ্চহার বজায় থাকায় ভালো লাভ হয়েছে।
শিল্পবিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মাইস্টিল অনুসারে, কাঁচামালের খরচ ও কয়লার দাম কম থাকায় মে মাসে আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশনের পরও প্রতি টনে ২ হাজার ইউয়ান (২৭৮ ডলার ৬৪ সেন্ট) লাভ হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা দুর্বল হওয়ায় নির্মাণ, পরিবহন এবং প্যাকেজিং শিল্পে ব্যবহৃত হালকা ধাতুর দাম চাপের মধ্যে রয়েছে।
দেশের চতুর্থ বৃহত্তম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশে চলমান বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে উৎপাদন সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এ মাসের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের পর এ প্রদেশের আকরিক গলানোর কারখানাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়তে পারে। বিশ্লেষকরা এতে ১০ লাখ টন পর্যন্ত উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছেন।
জানুয়ারি-মে মাস পর্যায়কালে চীন ১ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
তামা, অ্যালুমিনিয়াম, সিসা, দস্তা ও নিকেলসহ ১০টি লৌহ ব্যতিরেক ধাতুর উৎপাদন এক বছর আগের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৬১ লাখ ৫০ হাজার টন হয়েছে। বছরভিত্তিক তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধিতে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার টন।










