দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক নিলামে ধারাবাহিক দরপতনে ছেদ পড়ে গত মাসেই।
একটানা আট নিলামে নিম্নমুখী থাকার পর গত মাসের শেষ নিলামে প্রথম বারের মতো দাম বৃদ্ধি পায়।
তবে মূল্যবৃদ্ধির মাত্রা ছিল স্বল্প।
চলতি মাসের প্রথম নিলামে আবারো মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে।
কিন্তু এবার সূচকে পরিবর্তন এসেছে বড় পরিসরে।
আগের নিলামের তুলনায় দুগ্ধপণ্যের গড় দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ছয় মাসের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা।
প্রতি মাসে দুবার দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক বাজার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে বড় নিলাম বসে।
ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ নিলামের আয়োজন করে।
বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়।
গত মঙ্গলবার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে মহামারীর সংকট কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ঘটছে।
ফলে বাড়ছে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা।
ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ড জানায়, ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ বাড়েনি।
সর্বশেষ নিলামে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার ৪১০ টন দুগ্ধ সরবরাহ করা হয়।
এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার ৯৩ টন।
গত বছরের একই নিলামের তুলনায় বিক্রির পরিমাণ ৩৭ শতাংশ কমেছে।
নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম উঠেছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৯২৭ ডলার।
এবারের নিলামে ১৮৭ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেন।
এর মধ্যে ১১৪ জন সর্বোচ্চ দামে দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন।
চলতি বছরের মার্চের প্রথম নিলামে বড় পরিসরে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক বৃদ্ধি পায়।
এক বছরের ব্যবধানে মূল্যসূচক বাড়ে ১৫ শতাংশ।
কিন্তু এর পর থেকেই ধারাবাহিক দরপতন দেখা দেয়।
দুই নিলামে বাড়লেও বৃদ্ধির হার ছিল স্বল্প।
সর্বশেষ নিলামে আবারো বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
এর মধ্যে সব পণ্যের দামই ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
জিডিটি নিলামে সবচেয়ে প্রভাবশালী পণ্য ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ (ডব্লিউএমপি)। পণ্যটি থেকে সরসরি লাভবান হন খামারিরা।
জিডিটি প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, ডব্লিউএমপির দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতি টন ডব্লিউএমপির গড় দাম উঠেছে ৩ হাজার ৬৯১ ডলার পর্যন্ত।
গত নিলামে দুগ্ধপণ্যটির দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।
এদিকে শুধু আগের নিলামের তুলনায় নয়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও পণ্যটির দাম ২৪ শতাংশ বেড়েছে।
ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ নিলাম কেন্দ্রে ডব্লিউএমপির স্বাভাবিক সরবরাহ মাত্রা কমিয়ে আনছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চলতি মৌসুমে অত্যন্ত জোরালো চাহিদা এবং তরল দুধের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা উৎপাদন বৃদ্ধির সক্ষমতা সীমিত করতে পারে।
এ কারণেই ডব্লিউএমপির সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফন্টেরা।
এবার উত্তর এশিয়ার ক্রেতারা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম পরিমাণ দুগ্ধপণ্য ক্রয় করেছেন।
যদিও নিলামের সর্ববৃহৎ ক্রেতার অবস্থান ধরে রেখেছেন তারা।
দুগ্ধপণ্য ক্রয়ের দিক থেকে উত্তর এশিয়ার পরই রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
এদিকে সর্বশেষ নিলামে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতারা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ ডব্লিউএমপি ক্রয় করেছেন।
জিডিটি প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, সর্বশেষ নিলামে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতি টনের গড় দাম উঠেছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৭৪ ডলার পর্যন্ত।
মাখনের দাম ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি টনের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৪৮ ডলারে।










