নতুন অর্ডার, ভবিষ্যৎ আকাশযানের পরিকল্পনা ও চাহিদা সামনে রেখে শুরু হয়েছে প্যারিস এয়ার শো। মাঝে তিন বছর এই আয়োজনে বাধ সেধেছিল কভিড-১৯ মহামারী। খবর রয়টার্স।

গতকাল সোমবার (১৯ জুন) লে বোর্গেতে শুরু হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম এ এয়ার শো। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হেলিকপ্টারে চড়ে প্রদর্শনী দেখতে আসেন। তিন এয়ারবাসের সর্বশেষ সংস্করণ, এ৩২১এক্সএলআর ও ফরাসি রাফাল ফাইটারের প্রদর্শনী উপভোগ করেন তিনি। উড়েছে মার্কিন এফ-৩৫ ফাইটারও। সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পসরা সেজেছে প্রদর্শনী জুড়ে।

প্যারিস এয়ার শোতে নতুন কোনো দেশকে যুক্ত করার ব্যাপারে অংশীদারদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে বেলজিয়াম বলছে, তারা রাফাল ও বহুজাতিক ইউরোফাইটারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ‘ফ্রাঙ্কো-জার্মান-স্প্যানিশ এফসিএএস ফাইটার প্রকল্পের’ পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকতে চায়।

প্রদর্শনীটি ইউক্রেন প্রশ্নে ছায়াযুদ্ধে পরিণত হয়েছে। চার বছর আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ শোতে রাশিয়া অংশ নিলেও এবার তাদের উপস্থিতি নেই। অন্যদিকে কয়েকজন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা ও মহাকাশ ফার্ম উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এর মধ্যে ফ্রান্সের থ্যালেস ১৩টি দূরপাল্লার বিমান নজরদারি রাডারের জন্য ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ঘোষণা করেছে।

বাণিজ্যিক দিক থেকে উড়োজাহাজ নির্মাতারা নতুন ক্রয়াদেশ পাবার আশায় এয়ার শোতে আসেন। ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো এখনকার এয়ারলাইনসগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষ্যে সহায়তা ভাগাভাগিও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে বাড়তি খরচ, যন্ত্রাংশের ঘাটতি ও দক্ষ শ্রমিকের অভাবসহ এয়ারলাইনস শিল্পের চাহিদা মেটাতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন নির্মাতারা। এসব বিষয়ে মতবিনিময়েও ভূমিকা রাখছে প্যারিস এয়ার শো।