অস্ট্রেলিয়ার ভিসা নবায়নে শ্লথ গতি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চীনা বিনিয়োগকারীরা। অস্ট্রেলীয় সরকারের বিতর্কিত ‘গোল্ডেন ভিসা’ প্রোগ্রামটির কার্যক্রম কচ্ছপ গতিতে চলার কারণে তাদের স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। ২০১২ সালে বিজনেস ইনোভেশন অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (বিআইআইপি) চালু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সে সময় ধনী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল সরকার। প্রত্যাশা ছিল, বিনিয়োগকারীরা পুঁজি এনে ও নতুন উদ্ভাবন দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে। কিন্তু ধীরগতি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। খবর রয়টার্স।
চীনা বিনিয়োগকারী পল ওয়াং। পাঁচ বছরেও তিন সদস্যের পরিবারকে অস্ট্রেলিয়ায় আনার আশা পূরণ হয়নি তার। মন্থর গতির ভিসা সেবা ওয়াংয়ের মতো ধনী অভিবাসীদের বেকায়দায় ফেলেছে। নতুন জীবন শুরু করার জন্য ২০১৮ সালে পল ওয়াং বেইজিং ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। একটি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবসায় সেখানে তিনি ৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। তার আশা ছিল, অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ ভিসা প্রকল্পের অধীনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাবেন। কিন্তু প্রতিকূল বাস্তবতার মুখোমুখি ওয়াং বলেন, ‘আমরা আশা করিনি এত সময় লাগবে। এ অনিশ্চয়তার মধ্যে সামনে আগানোর পরিকল্পনা করতে পারছি না।’
গত মার্চে প্রকাশিত এক সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিআইআইপি নীতির আওতায় আসা অভিবাসীরা গড়ে অস্ট্রেলিয়ানদের তুলনায় অর্থনীতিতে কম অবদান রেখেছে। পর্যালোচনায় বিআইআইপি হোল্ডারদের আজীবন অর্থনৈতিক অবদানের অনুমান করা হয়েছে ৬ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের তুলনায় ১৬ লাখ মার্কিন ডলার কম। ১৩ মাস আগে ক্ষমতায় এসে অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টি সরকার দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি কমাতে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বেশির ভাগ বিআইআইপি স্থায়ী ভিসা প্রক্রিয়া করতে প্রায় তিন বছর সময় লেগে যায়। আগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে প্রায় ১২ মাসের মতো সময় লাগত। ভুক্তভোগীরা প্রায়ই দেড়-দুই বছর অপেক্ষা করছেন। কানাডা, ব্রিটেন ও সিঙ্গাপুর এ ধরনের বিনিয়োগ ভিসা স্কিম বাতিল করেছে। দেশগুলো মনে করছে, তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে না। কেবল ভিসা পেতে অর্থ জমা করে।
কভিডের সময় অস্ট্রেলিয়ান ভিসার কাজ প্রতিটি বিভাগে ধীর গতিতে চলায় বহু আবেদন জমে থাকে। কভিডকালীন স্থবিরতা কেটে যাওয়ায় সরকার ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় কমিয়ে এনেছে। তবে তিন হাজারেরও বেশি বিআইআইপি হোল্ডার ও তাদের পরিবারের আবেদন জমা পড়ে আছে। অনেক আবেদন জমে যাওয়ায় অন্যদের মতো বহু চীনা নাগরিকেরও অপেক্ষা কেবল দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিলম্বিত হওয়ার ঘটনা শঙ্কা তৈরি করেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। তারা মনে করছেন, সরকার হয়তো বিআইআইপি প্রকল্প সংকুচোন বা বাতিল করে দেবে। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স অস্ট্রেলিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক টনি লে নেভেজ দাবি করেছেন, ‘আমি মনে করি না বিনিয়োগ প্রকল্পটা বর্তমানে ঠিকমতো কাজ করছে। তারা ক্রমেই স্থবিরতার দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
এদিকে সরকার বিআইআইপি বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাঁচ হাজার থেকে কমিয়ে গত অর্থবছরে ১ হাজার ৯০০-তে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় ২০ শতাংশেরও কম। বিআইআইপি সুযোগ পাওয়া বিনিয়োগকারীদের দাবি, এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে তারা আর বিনিয়োগ করতে ভরসা পাচ্ছেন না। কেউ কেউ অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি বিক্রি করে দিচ্ছেন। চীনা বিনিয়োগকারী তান মেলবোর্নে আসবাবপত্রের ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি বলেছেন, ‘চিরকাল অপেক্ষা করে থাকার মানে চলতি ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।’










