নতুন মৌসুমের শুরুতেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গম রফতানিকারকরা। আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার সস্তা দামের খাদ্যশস্য ছড়িয়ে পড়াকেই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাশিয়া তুলনামূলক কম দামে বাজারে বিপুল পরিমাণ গম সরবরাহ করায় বৈশ্বিক চাহিদা যেমন পূরণ হচ্ছে, তেমনি ইইউর রফতানি সক্ষমতা কমছে। খবর রয়টার্স।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ইইউতে গমের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে শস্যটির উদ্বৃত্ত থাকবে। এর পরও রফতানি ব্যাহত হচ্ছে। কারণ বিপুল পরিমাণ সস্তা দামের রাশিয়ান খাদ্যশস্য বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইইউর রফতানিকারকরা নতুন ক্রেতা খুঁজে পেতেও হিমশিম খাচ্ছেন। বর্তমানে মরক্কো ও চীনকে প্রধান রফতানি গন্তব্য হিসেবে বিবেচনায় রাখছে ব্লকটির রফতানিকারকরা।

তথ্য বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে খাদ্যশস্য রফতানি বন্ধ হয়ে পড়ে। টানা ছয় মাস ইউক্রেন সেখানকার বন্দর ব্যবহার করে শস্য রফতানি করতে পারেনি। এ সময় ক্রেতারা বিকল্প উৎস হিসেবে ইইউর দেশগুলো থেকে শস্য কেনার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ব্যাপক চাহিদা কারণে তখন ব্লকটির রফতানি এক লাফে আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। তবে এখনকার চিত্র একদমই তার উল্টো।

ইইউতে জুলাই থেকে ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুম শুরু হয়েছে। মৌসুম শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন অঞ্চলটির রফতানিকারকরা। গত বছর রেকর্ড উৎপাদনের সুবাদে রাশিয়ায় বিপুল পরিমাণ গমের মজুদ রয়েছে। চলতি বছরও উৎপাদন ব্যাপক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসদাতারা বলছেন, এ বছরও রাশিয়া গম রফতানিতে নতুন রেকর্ড গড়বে। 

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ইইউর গম রফতানিও লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অনেকেই মনে করছেন, রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে এবার রফতানি প্রবৃদ্ধির হার অপরিবর্তিতই থাকবে। ইউরোপের ব্যবসায়ীরা রয়টার্সকে জানান, আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোয় ইইউর শস্য রফতানি বাণিজ্যের জন্য প্রধান হুমকি রাশিয়ান গম।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, রাশিয়া বর্তমানে ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তিতে প্রতি টন গম ২৩০ ডলারে রফতানি করছে, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় যা ২৫-৩০ ডলার কম।

২০২২-২৩ মৌসুমে আলজেরিয়াকে পেছনে ফেলে ইইউর প্রধান গম রফতানি গন্তব্য হয়ে ওঠে মরক্কো। চলতি মৌসুমেও দেশটিতে বিপুল পরিমাণ গম রফতানি করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।