অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা ও আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান কোনো ধরনের আপসের সুযোগ দেয় না।

তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, অতীতে যখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, তখন আর্থিক শৃঙ্খলা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা কিংবা শেয়ারবাজার নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। তাই নিশ্চিন্ত থাকুন ...।

আজ মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে কখনোই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বা আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বা শেয়ারবাজারে অনিয়ম নিয়ে কোনো উদ্বেগ ছিল না।

মন্ত্রী আরো জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, যারা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে পালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি রিকভারি প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ উদ্ধারের জন্য আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি রিকভারি প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজ করছে।

আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনগুলোতে এ অর্থ সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে।

এদিন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বাজেটের পদক্ষেপ এবং বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বেসরকারি খাতের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, এটি একটি বড় ঘাটতি এবং রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। তবে সময় ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্থনীতি আবার গতি ফিরে পাবে বলে আমরা আশাবাদী। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের আর্থিক খাত বড় ধরনের পুঁজি ঘাটতির মুখে রয়েছে, যা দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুঁজির সংকটে ভুগছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জাতীয় মুদ্রার ৪০ শতাংশের বেশি অবমূল্যায়ন, পাশাপাশি ইউটিলিটি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি খাতের ব্যবসায় প্রায় ৫০ শতাংশ পুঁজি ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে অবৈধভাবে পুঁজি পাচারের কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা খাতটিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার এরইমধ্যে পুঁজি পুনঃসংযোজনের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আগামী বাজেটগুলোয় এ খাতে বরাদ্দ অব্যাহত রাখা হবে।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংক খাত পুনঃমূলধনীকরণে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বিশেষ করে আইএমএফের সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যাতে স্থিতিশীলতা ও তারল্য ফিরিয়ে আনা যায়।

অর্থমন্ত্রী অতীতের নানা অনিয়ম যেমন ঋণ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ও আর্থিক খাতে অসদাচরণের সংকটকে আরো তীব্র করেছে বলে স্বীকার করেন। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ব্যাপক ঋণ নেয়ায় বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তি সীমিত হয়ে পড়েছিল বলেও জানান তিনি।