অব্যাহতভাবে বাড়ছে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক দাম। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচকে বড় পরিবর্তন এসেছে। এ নিয়ে টানা দুই নিলামে বাজারদর বাড়ার ঘটনা ঘটল। চলতি মৌসুমে বিশ্বজুড়ে কমছে দুধ উৎপাদন। সংকুচিত হচ্ছে সরবরাহ। ফলে ক্রেতারা চাহিদামাফিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বেশি দামেই দুগ্ধপণ্য কিনেছেন। এটি বাজারদরকে আট মাসের সর্বোচ্চে নিয়ে গিয়েছে।

প্রতি মাসে দুবার দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক বাজার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে বড় নিলাম বসে। ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ নিলামের আয়োজন করে। বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়। গত মঙ্গলবার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল্যসূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা আট মাসের সর্বোচ্চ। এবারের নিলামে ১৮৪ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ১১৩ জন সর্বোচ্চ দামে দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন। সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৮৬৮ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৯ হাজার ৯১৫ টন। নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম উঠেছে টনপ্রতি ৪ হাজার ২০৭ ডলার।

ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তা পর্যায়ে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ালেও এতে বড় সুবিধা পাচ্ছেন দুগ্ধ খামারিরা। ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ (ডব্লিউএমপি) থেকে খামারিরা সরাসরি মুনাফা লাভ করেন। নিলামে পণ্যটির গড় দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রতি টন ডব্লিউএমপি ৩ হাজার ৯২১ ডলারে বিক্রি হয়েছে। চাহিদা ও সরবরাহে ব্যবধানের কারণে পণ্যটির দাম শিগগিরই ৪ হাজার ডলারের গণ্ডি ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুগ্ধপণ্যের চাহিদা আগের মতোই ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সরবরাহ কম। ফলে গত সপ্তাহে খামারিদের মিল্ক পেমেন্ট পূর্বাভাস রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি করে ফন্টেরা গ্রুপ। দুগ্ধপণ্য ক্রয়ের দিক থেকে নেতৃস্থানীয় উত্তর এশিয়ার ক্রেতারা। সর্বশেষ নিলামে এসব ক্রেতার কাছে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা ছিল শক্তিশালী। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে অন্যান্য অঞ্চল।

এনজেডএক্সের ডেইরি ইনসাইট ম্যানেজার স্টুয়ার্ট ডেভিসন বলেন, উত্তর আমেরিকার দেশগুলো সর্বশেষ নিলামে আগের তুলনায় অনেক বেশি দুগ্ধপণ্য কেনে। সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ অঞ্চলের ক্রেতাদের আগ্রাসী প্রবণতা দামকে আকাশচুম্বী করে তোলে। গত ছয় নিলামের পাঁচটিতেই দাম বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন এ বিশ্লেষক।

এএসবি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ নেট কেইল বলেন, চলতি মৌসুমে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবধান উৎপাদকদের অনুকূলে থাকবে। এ সময় দুগ্ধপণ্য খাতে সবচেয়ে বেশি আয় আসবে। বিশ্ববাজারে জাহাজীকরণ সক্ষমতা চাপের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও দুগ্ধপণ্য রফতানির পরিমাণ চোখে পড়ার মতো। ফলে রফতানি কমার আশঙ্কা তৈরি হলেও এতে ভারসাম্য রক্ষা করবে বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী দাম। এদিকে শুধু সরবরাহ সংকটই নয়, বরং কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে খামার পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও বাজারে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জিডিটির সর্বশেষ নিলামের তথ্য বলছে, মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধ ছাড়া সব পণ্যের দামই বেড়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক বেড়েছে চেডার পনিরের দাম। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৫৮ ডলারে। ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৩ হাজার ৫১৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম ৪ দশমিক ২, মাখনের দাম ৪ দশমিক ৭ ও ল্যাকটোজের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।