ইউরোজোনের অর্থনীতি আগামী বছর সামান্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মজুরি তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুত বেড়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের অর্থনীতিবিদদের জরিপে এ তথ্য জানা যায়।

জরিপে অংশ নেয়া ৪৮ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মনে করেন, ইউরোপের একক মুদ্রা ব্লকটি এরই মধ্যে মন্দার মধ্যে রয়েছে। গত প্রান্তিকের তুলনায় মোট জিডিপি দুই-চতুর্থাংশ সংকুচিত হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিএনপি পারিবাসের প্রধান ইউরোপীয় অর্থনীতিবিদ পল হলিংসওয়ার্থ বর্তমান পরিস্থিতিকে পূর্ণাঙ্গ মন্দার পরিবর্তে স্থবিরতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো অবনতির পরিবর্তে ২০২৪ সালে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের আশা করছেন।

বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদ স্বল্পমেয়াদি সংকোচনের পূর্বাভাস দিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে সামান্য ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে আসবে ইউরোজোনে। কিন্তু উচ্চ সুদহার, সম্ভাব্য জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সম্পর্কে উদ্বেগ আরো গভীর মন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে ইউরোজোনকে।

অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, গড়ে ইউরোজোনের অর্থনীতি আগামী বছর শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখবে। এটি ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) ও ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের (আইএমএফ) তুলনায় আরো রক্ষণশীল পূর্বাভাস। যেখানে ইসিবি ও আইএমএফ যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৮ ও ১ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।

ইসিবির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিটোর কনস্টানসিও জানান, ইউরোজোনের অর্থনীতির জন্য জার্মানি বা ইতালিতে মন্দা ও ট্রাম্পের নির্বাচনে জয় সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বেরেনবার্গের প্রধান অর্থনীতিবিদ হোলগার সিমিয়েডিং ট্রাম্পের জয়কে ইউরোপের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন।

আমুন্ডি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের গ্লোবাল ম্যাক্রো ইকোনমিকসের হেড মাহমুদ প্রধান ইউরোজোনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন কঠোর মুদ্রানীতি ও জার্মানিতে কম রাজস্ব আদায়।

দুই-তৃতীয়াংশ অর্থনীতিবিদ আশা করছেন, আগামী বছর জার্মানির অর্থনীতি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসবে।

ডয়েচে ব্যাংকের চিফ ইউরোপিয়ান ইকোনমিস্ট মার্ক ওয়াল জানান, জার্মানির কঠোর রাজস্বনীতি ও ৬ হাজার কোটি ইউরোর বাজেট ঘাটতির কারণে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ সংকোচন দেখা যাবে।

অর্থনীতিবিদরা এখনো ২০২৪ সালে ইউরোজোনের জ্বালানি তেল সরবরাহের আরেকটি ধাক্কা পাওয়ার আশঙ্কা করছেন। যদিও জ্বালানি তেলের মজুদ এখন পূর্ণ রয়েছে। তবে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম কমেছে।

পিজিআইএম ফিক্সড ইনকামের ক্যাথরিন নেইস জানান, ইউরোপে জ্বালানি তেল সরবরাহ সীমাবদ্ধ রয়েছে। তাই যেকোনো সরবরাহজনিত উদ্বেগ দাম বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতি দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইসিবির ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তারা পূর্বাভাস দিয়েছে যে ভোক্তামূল্য আগামী বছর গড়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশের ওপর বাড়বে, যা ২০২৫ সালে ২ দশমিক ১ শতাংশের সামান্য নিচে থাকবে।

জরিপের গড় পূর্বাভাস অনুসারে, আগামী বছর ইউরোজোনে মজুরি বৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ইসিবির পূর্বাভাসের চেয়ে দুর্বল। তবে এর অর্থ তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রকৃত গৃহস্থালি আয় বাড়বে।

অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস করছেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ বেকারত্ব অক্টোবরে ইউরোজোনের ৬ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হবে।