ইলেকট্রনিক পণ্য (বিশেষ করে স্মার্টফোন) ও সেবা খাতে শক্তিশালী রফতানি সত্ত্বেও ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্য বৃদ্ধির হার কমছে। এটা চলতি বছরে ২ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পণ্য ও সেবা আমদানি-রফতানি চলতি বছর ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার হবে, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ১৯০ কোটি ডলার। খবর দি ইকোনমিক টাইমস।
ইউনাইটেড নেশনস কনফারেনস অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) গ্লোবাল ট্রেড আপডেট অনুসারে, জানুয়ারি-নভেম্বর ২০২৩-এর মধ্যে ভারতে পণ্যদ্রব্য রফতানি ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময় চীনের পণ্য রফতানি ৫ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে।
ভারতে ২০২৩ সালে যেসব খাতে প্রবৃদ্ধি হবে তার মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজের টারবাইন জ্বালানি, মোটর পেট্রল, স্মার্টফোন, বাসমতি চাল, মোটর গাড়ি (মাঝারি আকার), টার্বো-জেট ও প্রাইভেট কারের যন্ত্রাংশ। এর মধ্যে স্মার্টফোন রফতানি ২০২২ সালে ৭২০ কোটি ডলারের তুলনায় চলতি বছরে প্রায় ৯৩ শতাংশ বেড়ে ১৪০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালে স্মার্টফোন ভারতের জন্য একটি বড় সাফল্যের খাত হিসেবে দেখা দিয়েছে। রফতানিতে এ উল্লম্ফন ভারতের ইলেকট্রনিকস রফতানির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। এটা ২ হাজার ৬৮০ কোটি ডলারে পৌঁছবে, যা ২৬ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত করে। সঙ্গে আমদানি যোগ করলে ইলেকট্রনিকস খাতে ব্যবসার পরিমাণ ৮ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে।
কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও অন্যান্য হার্ডওয়্যারের মতো ইলেকট্রনিক পণ্যের আমদানি এ বছর ১০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেতে পারে।
প্রকৌশল পণ্য, পেট্রোলিয়াম পণ্য, রাসায়নিক, রত্ন ও গহনা, তৈরি পোশাক, তুলার সুতা/ফেব্রিকস/মেড-আপস পণ্য (ব্যাগ, বালিশের কভার প্রভৃতি), তাঁত পণ্য, প্লাস্টিক, সামুদ্রিক পণ্য, চামড়া, কার্পেট, হস্তশিল্প ও চায়ের মতো ঐতিহ্যবাহী খাতে রফতানি চলতি বছর হ্রাস পাবে।
এ পতনের জন্য দায়ী দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা। একই সঙ্গে ভারত ধীরে ধীরে শ্রমসংশ্লিষ্ট খাতে প্রতিযোগিতা হারাচ্ছে।
জিটিআরআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘ˆপট্রোলিয়াম পণ্যের রফতানিও ৯ শতাংশের বেশি কমে ৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার হতে পারে। এর বিপরীতে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানি চলতি বছর ১৩ হাজার ৯৮০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। এটা গত বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ভারতের পণ্যদ্রব্য রফতানি ২০২৩ সালে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৪২ হাজার ৯৪০ কোটি ডলার হতে পারে। এটা ২০২২ সালে ৪৫ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার ছিল। একই ভাবে পণ্যদ্রব্য আমদানি এ বছর ৭ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলার হতে পারে। এটা গত বছরে ছিল ৭২ হাজার ২০ কোটি ডলার।
অন্যদিকে সেবা খাতে রফতানি চলতি বছর ৩৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার হবে। এটা ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে, যা গত বছরে ছিল ৩০ হাজার ২০০ কোটি ডলার। তবে সেবা খাতে আমদানি ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার হবে, যা ২০২২ সালের সমান।
পণ্য ও সেবা রফতানি গত বছর ৭৫ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার থেকে চলতি বছর সামান্য বেড়ে ৭৬ হাজার ৩০০ কোটি ডলার হবে। পণ্য ও সেবা খাতে আমদানি ২০২২ সালের ৮৯ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার থেকে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২০২৩ সালে ৮৪ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার হতে পারে। রফতানি ও আমদানির মোট আকার ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে।










