পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে মে মাসে জাপানের প্রকৃত মূল্যস্ফীতি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে জ্বালানি ব্যয় বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৪২ বছরের সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে চাপে রয়েছে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)। এতে বড় অংকের প্রণোদনা প্যাকেজের রাশ টানতে বাধ্য হতে পারে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।

পচনশীল খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেলবহির্ভূত পণ্যের মূল্যসূচক ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ১৯৮১ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ। গত এপ্রিলে প্রকৃত মূল্যসূচক ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ। সরকারি ভর্তুকিতে গত মাসে জ্বালানি ব্যয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমলেও খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২ শতাংশ। গত এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি যেখানে ছিল ৯ শতাংশ। ফ্রাইড চিকেন, হ্যামবার্গার থেকে শুরু করে চকোলেট-বেশির ভাগ খাদ্যপণ্যেরই দাম বেড়েছে।

গত মাসে হোটেল কক্ষের ভাড়া ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। গত এপ্রিলে তা বেড়েছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ। পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর ফলে হোটেল ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন হোটেল অপারেটররা।

গত এপ্রিলে সর্বশেষ পূর্বাভাসে বিওজে জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রকৃত ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াবে। গত মাসে রয়টার্সের জরিপে যেখানে ২ দশমিক ৬ শতাংশের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতিতে চাপে রয়েছে জাপানের খানাগুলো।

শুক্রবার প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে, মে মাসে জাপানের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এপ্রিলের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমলেও বাজারের ৩ দশমিক ১ শতাংশ সিপিআই পূর্বাভাস থেকে বেশি। এ মূল্যসূচকে জ্বালানি পণ্য থাকলেও পচনশীল খাদ্যপণ্য বাদ রাখা হয়। 

এদিকে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের মধ্যে রাখতে টানা ১৪ মাস ব্যর্থ হয়েছে বিওজে। ব্যয় বৃদ্ধিতে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি ক্ষণস্থায়ী হবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন নীতি যে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সর্বশেষ উপাত্তে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মিজুহু সিকিউরিটিজের বাজার অর্থনীতিবিদ রিয়ুসুক কাতাগি বলেন, ‘‌ যেভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, তাতে গ্রীষ্মে চূড়ায় পৌঁছবে বলে মনে হচ্ছে। তবে কোম্পানিগুলো ব্যয়ভার গ্রাহকের ওপর দীর্ঘদিন চাপিয়ে দিতে পারে।’

বিওজে গভর্নর কাজ্যু উয়েদা স্বীকার করেন, প্রত্যাশার চেয়ে ও ধীরগতিতে কমছে মূল্যস্ফীতি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার আগের পূর্বাভাসে স্থির রয়েছে। চলতি অর্থবছরের শেষের দিকে সিপিআই ২ শতাংশের মধ্যে থাকবে।