যুক্তরাজ্যে মজুরি বাড়ার হার সম্প্রতি ধীর হয়েছে। সেই সঙ্গে চাকরির বাজারেও মন্দা ভাবের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। দেশটির সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর বিবিসি।

প্রতিবেদন বলা হয়, বেতন-বোনাস বৃদ্ধি অক্টোবর থেকে তিন মাসে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে শূন্যপদের সংখ্যাও কমছে।

আগের মতো আয় দ্রুত না বাড়লেও মূল্যস্ফীতি এখনো নিয়ন্ত্রণে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড শিগগিরই সুদহার কমাবে না।

যুক্তরাজ্যে চাকরিজীবীর সংখ্যাও কমছে, সেই সঙ্গে কমছে শূন্যপদের সংখ্যাও। সেপ্টেম্বর-নভেম্বরে এ সংখ্যা ৪৫ হাজার কমেছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের পরিচালক ড্যারেন মরগান বলেন, ‘এটি রেকর্ড পরিমাণ পতনের দীর্ঘতম সময়, যা ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দাকেও ছাড়িয়ে গেছে।’

টানা ১৭ মাস এ শূন্যপদগুলোর সংখ্যা নিম্নমুখী। ড্যারেন মরগান জানান, দেশটির সামগ্রিক শূন্যপদের সংখ্যা ৯ লাখ ৪৯ হাজার। তবে তা কভিডকালীনের চেয়ে ওপরের স্তরে।

নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সাহায্য করে স্মার্ট ওয়ার্কস নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কেট স্টিফেনস বলেন, ‘চাকরির বাজারের অবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে, যার কারণে মানুষের চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। আমার ধারণা, এখন মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। মানুষ এখন চাকরি করতে চায়, কারণ তাদের বর্তমানে আয়ের নিরাপত্তা দরকার। তবে এ প্রয়োজনীয়তার জন্য তারা যেকোনো ধরনের চাকরি বাছাই করবে, ব্যাপারটা এমন নয়।’

অন্যদিকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদহার বাড়ানোর কারণে মূল্যস্ফীতি কমেছে। বর্তমানে দেশটির সুদহার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন সুদহার আবার কমতে পারে। তবে দেশটির বর্তমানে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া অক্টোবর থেকে তিন মাসে নিয়মিত বেতন মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুত হারে বেড়েছে।

গত মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি জানান, সুদহার কমানোর বিষয়ে তারা দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ব্যাংকটি টানা তৃতীয়বারের মতো তার সুদহার একই রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। উচ্চ সুদহার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে তা সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের ঋণের খরচ বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে সুদহার বাড়লে তা মানুষকে সঞ্চয়ে আগ্রহী করে তোলে।