গত সপ্তাহে জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে কড়াকড়ি আরোপ করে। যার ধারাবাহিকতায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে ফের অস্থিরতা দৃশ্যমান। এ অবস্থায় মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজ দাবি করেছে, জ্বালানি তেল উত্তোলন আরো কমাতে ওপেক প্লাস দেশগুলোর ওপর নতুন করে চাপ দিচ্ছে জোটের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সৌদি আরব। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সূত্র ধরে বৈশ্বিক তেল সংকটের এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে এক ধরনের মৌখিক বাগবিতণ্ডা বিরাজমান। তা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। খবর রয়টার্স।
ওপেক সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একের অধিক রাষ্ট্র সৌদি আরবের তেল উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোট প্রদান করা থেকে বিরত থেকেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি। তিনি বলেন, আমরা তাদের চিহ্নিত করতে যাচ্ছি না। তারা নিজেরাই নিজেদের কথাগুলো বলবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তের আগে তেলের উত্তোলন হ্রাসের কোনো বাজারনির্ভর ভিত্তি ছিল না। বৃহস্পতিবার এ সম্পর্কে জন কিরবি বলেন, রিয়াদের দাবির বিপরীতে তেলের উত্তোলন হ্রাস করাটা ছিল ‘বিশুদ্ধভাবে অর্থনৈতিক’।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট থাকলেও রাশিয়াসহ গত সপ্তাহে ওপেক তালিকাভুক্ত ১৩ সদস্যের জোট দেশগুলো তেল উত্তোলন কমিয়ে দিনে ২ মিলিয়ন ব্যারেলে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা প্রায় অর্ধেক পরিমাণ প্রকৃত উত্তোলন হ্রাসের আশঙ্কা করছেন।
বৃহস্পতিবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বিবেচনায় নিয়ে ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তটি ঐকমত্যের মাধ্যমে গৃহীত হয়েছিল। যার লক্ষ্য ছিল বাজারের অস্থিরতা রোধ করা।
এ মন্তব্যের বিপরীতে কিরবি তার বিবৃতিতে বলেন, বিষয়গুলো খুবই সহজ, এখানে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টির মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারে, যা রাশিয়ার রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করবে এবং ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণ করার পর মস্কোর বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা কমিয়ে দেবে।
এ-বিষয়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ওপেকের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বরে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর। এর আগে পর্যন্ত উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করা হবে না। এদিকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন নির্ধারণ করবে জো বাইডেনের ডেমোক্রেটিক পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সমর্থ হবে কিনা।
প্রসঙ্গত, শীতের কথা বিবেচনা করে ওপেক প্লাস গত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করে। মিত্র জোটের এ সিদ্ধান্তে গত মার্চের পর থেকে আবারো জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।










