রাশিয়া-ইউক্রেন, হামাস-ইসরায়েল সংঘাতসহ ভূরাজনৈতিক কারণে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা খাতে ক্রয়াদেশ বেড়েছে। মার্কিন ঠিকাদার, বিএই সিস্টেমস অব ব্রিটেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার হানওয়া অ্যারোস্পেসসহ ১৫টি প্রতিরক্ষা কোম্পানির ক্রয়াদেশ তথ্য বিশ্লেষণ করেছে দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। 

এসব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সম্মিলিত ক্রয়াদেশের সংখ্যা ২০২২ সালের শেষে ৭৭ হাজার ৭৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা দুই বছর আগে ৭০ হাজার ১২০ কোটি ডলার ছিল।

এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২০২৩ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ সংস্থাগুলোর সম্মিলিত ক্রয়াদেশের মূল্য ৭৬ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ক্রয়াদেশ বাড়ায় এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসসিআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, ১২ মাসে প্রতিরক্ষা খাতে বৈশ্বিক মজুদ ২৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের স্টোক্স অ্যারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা মজুদ সূচক ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং অন্যান্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে প্রধান প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ক্রয়াদেশ বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করেন বিভিন্ন দেশের সরকারের উচ্চতর প্রতিরক্ষা ব্যয় একটি স্থায়ী প্রভাব তৈরি করবে এ খাতে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে মোট বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপে অস্ত্র মজুদ ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি অ্যারোস্পেস সংস্থা হানওয়া অ্যারোস্পেসে নতুন অর্ডার সর্বাধিক বেড়েছে। ২০২০ সালে তাদের ব্যয় ২৪০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২২ সালের শেষ নাগাদ ১ হাজার ৫২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া গত দুই বছরে অস্ত্র বিক্রেতাদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপ থেকে উল্লেখযোগ্য রফতানির ক্রয়াদেশ পেয়েছে দেশটি। ২০২২ সালে এটি বিশ্বের নবম বৃহত্তম অস্ত্র বিক্রেতা ছিল।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পর ব্যবসা বেড়েছে জার্মান ট্যাংক নির্মাতা রেইনমেটালের। তাদের ক্রয়াদেশ ২০২০ সালে ১ হাজার ৪৮০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ২ হাজার ৭৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

যদিও সব ব্যয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা কোম্পানি বিএই সিস্টেমসের ক্রয়াদেশের পরিমাণ গত বছরের ৬ হাজার ১৮০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে চলতি বছর ৭ হাজার ৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

নতুন ক্রয়াদেশ সত্ত্বেও অনেক ইউরোপীয় ও মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এ খাতে শ্রম ঘাটতির কারণে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে কোম্পানিগুলো।