জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার অংশ হিসেবে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে জোর তত্পরতা চালাচ্ছে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো। ফলে পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ির কদর বাড়ছে। এছাড়া মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন খাত। খাত দুটিতে ইস্পাতের ব্যবহার বাড়ছে। কাঁচামাল হিসেবে বাড়ছে নিকেলের ব্যবহারও। বাজারে পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় দেশে দেশে নিকেল উত্তোলন বাড়ছে। চলতি বছর নিকেল উত্তোলন প্রায় ৭ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে শীর্ষস্থানীয় তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটা।

বিশ্বব্যাপী নিকেল উত্তোলন খাতে দ্রুত প্রসার ঘটছে। মহামারীজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হতে থাকায় খনিগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কাটছে গত বছরের মন্দা ভাব। সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবাল ডাটার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে মোট ২৪ লাখ ২৭ হাজার ৪০০ টন নিকেল উত্তোলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় উত্তোলন বাড়বে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। কভিড-১৯-সংক্রান্ত লকডাউন এবং নানা বিধিনিষেধের কারণে গত বছর উত্তোলন ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২২ লাখ ৭২ হাজার টনে নেমে গিয়েছিল।

গ্লোবাল ডাটা জানায়, এ বছরের উত্তোলন প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও ব্রাজিল। বিপরীতে রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় উত্তোলন কমে যেতে পারে।

গ্লোবাল ডাটার সহযোগী প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিনিথ বাজাজ বলেন, গত বছর ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও ব্রাজিলের মোট নিকেল উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৬০ হাজার টন। চলতি বছর দেশ তিনটির মোট উত্তোলন ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টনে পৌঁছতে পারে।

বৈশ্বিক নিকেল উত্তোলনে প্রথম ইন্দোনেশিয়া। নিকেল শিল্পে সম্প্রসারণ দেশটির উত্তোলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এ বছর ইন্দোনেশিয়ার উত্তোলন ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। বিভিন্ন খনির বন্ধ হয়ে হয়ে পড়া কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় ফিলিপাইনের উত্তোলন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির উত্তোলন বাড়বে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। এদিকে ২০১৫ সালের পর অচল হয়ে পড়া সান্টা রিটা খনি আবারো চালু হওয়ায় প্রবৃদ্ধি দেখছে ব্রাজিল। এ বছর দেশটির নিকেল উত্তোলন ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে।

বিনিথ বাজাজ আরো বলেন, বিশ্বজুড়ে মোট উত্তোলিত নিকেলের তিন-চতুর্থাংশই আসে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ ক্যালিডোনিয়া থেকে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন এবারো বিশ্বের সবচেয়ে বড় নিকেল উত্তোলক দেশের তকমা ধরে রাখতে সক্ষম হবে।

গ্লোবাল ডাটার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিকেল উত্তোলনে যৌগিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) বাড়বে ৩ শতাংশ। ২০২৫ সালে উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৭ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ টনে। এ সময় উত্তোলন প্রবৃদ্ধিতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা রাখবে ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, কানাডা ও ফিলিপাইন। ২০২৫ সালে এসব দেশের মোট নিকেল উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৪০০ টনে।

এদিকে নিকেল উত্তোলন সক্ষমতা বাড়াতে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে শীর্ষ উত্তোলনকারী দেশগুলো। এর মধ্যে ব্রাজিল অ্যারাগুইয়া নামে এক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের অধীনে আগামী বছর থেকে নিকেল উত্তোলন শুরু হবে। এ প্রকল্পের বার্ষিক নিকেল উত্তোলন সক্ষমতা ১৪ হাজার ৫০০ টন। এদিকে ইন্দোনেশিয়া অ্যাকুইলা নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।