চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ইতিবাচক না থাকায় ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা কমেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এশিয়ার কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম ধীর হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের অভিমত নতুন বছরেও এ পরিস্থিতি চলমান থাকবে। খবর রয়টার্স।
সম্প্রতি এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্রকাশিত পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্সে (পিএমআই) দেখা যায়, গত বছরের শেষ দিকে এশিয়ার অধিকাংশ দেশের কারখানা কার্যক্রম কমেছে। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের আত্মবিশ্বাসেও এটি প্রভাব ফেলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কারখানাগুলোয় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এশিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। অন্যদিকে তাইওয়ান টানা ১৯ মাসের মতো উৎপাদন কমানো অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে চীনের সাইশিন পিএমআইতে কার্যক্রম বাড়তে দেখা গেছে। তবে সম্প্রতি বেইজিংয়ের সরকারি সূত্রে প্রকাশিত পিএমআইর সম্পূর্ণ বিপরীত। টানা তিন মাস ধরে এটি সংকোচনে। চীনে বর্তমানে মিশ্র অর্থনৈতিক সম্ভাবনার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাইশিন ইনসাইট গ্রুপের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ওয়াং ঝি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে ডিসেম্বরে চীনের উৎপাদন খাত উন্নতির দিকে ছিল। এর মধ্যে সরবরাহ ও চাহিদাও বাড়ছিল এবং দামও ভোক্তাদের নাগালে ছিল। বিগত বছরের শেষে এসব বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা পাওয়া গেলেও কর্মসংস্থানের সুযোগের বিষয়টি অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। অন্যদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতেও সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা। এর মধ্যে নিয়োগ, কাঁচামাল ক্রয় ও মজুদ ব্যবস্থাপনার বিষয় রয়েছে।’
মহামারী-পরবর্তী সময়ে চীনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বেইজিং সম্প্রতি বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু আবাসন খাতে ধস, স্থানীয় সরকারের ঋণ ও বৈশ্বিক পর্যায়ে চাহিদা কমে আসায় দেশটি হিমশিম খাচ্ছে। এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোয় বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামেও কারখানা কার্যক্রম মন্থর ছিল। তবে ইন্দোনেশিয়ায় এটি কিছু ঊর্ধ্বমুখী ছিল বলে পিএমআইয়ের তথ্যানুসারে জানা গেছে। ভারত ও জাপানের পিএমআই প্রতিবেদন চলতি সপ্তাহে প্রকাশের কথা রয়েছে।
ডিসেম্বরের এশিয়ার পিএমআই সূচকের বেশির ভাগই নিম্নমুখী ছিল। তবে অঞ্চলটির অন্যান্য সূচক মহামারী-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষণকে নির্দেশ করছে। সিঙ্গাপুরে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে পণ্য উৎপাদন এক বছর আগে থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে বেড়েছে বলে জানা গেছে। অবকাঠামো নির্মাণ ও উৎপাদন কার্যক্রম চলমান থাকায় এ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্য রফতানিও বেড়েছে। তবে এর গতি কিছুটা কম ছিল।










