ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) আগামী বছরে সুদহার কমানোর খবর জানানোর পর ডলারের বিনিময় হার হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ইউরো ও জাপানি ইয়েন উভয়ের বিনিময় হার বেড়েছে। খবর রয়টার্স।
ফেডের ঘোষণা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, ২০২৪ সালে সুদহার বৃদ্ধির চক্রের অবসান ঘটতে পারে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) তার নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে প্রস্তুত এবং ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসতে পারে।
ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বৈঠকে ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল সম্প্রতি জানিয়েছেন, মুদ্রানীতি কঠোর করার পর্ব শেষ হয়ে এসেছে এবং ঋণের ব্যয় কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হচ্ছে। ফেডের নীতিনির্ধারকরা সর্বসম্মতভাবে প্রত্যাশা করেছেন, ২০২৪ সালে ঋণের ব্যয় কমে আসুক।
সিটি ইনডেক্সের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন জানান, নতুন বছরে প্রবেশ করার সঙ্গে সুদহার কমে যাওয়া মুদ্রাবাজারের জন্য বড় উন্নয়নের খবর এবং এটি মুদ্রাবাজারের জন্য প্রয়োজনীয় স্পষ্টতা তৈরি করেছে।
ম্যাট সিম্পসন মনে করেন, ফেড বৈঠকের খবরটি সম্ভবত আসন্ন অর্থনৈতিক তথ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ব্যক্তিগত ভোক্তা ব্যয়ের তথ্য বেরিয়ে আসবে। তিনি আরো জানান, এতে ডলারের ওপর আরো সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ ডলারের বিনিময় হার আরো কমতে পারে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুসারে, মার্চে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭৫ শতাংশ, যা এক সপ্তাহ আগে ৫৪ শতাংশ ছিল।
যদিও সাম্প্রতিক প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত আশাবাদী করে তুলেছে যে ফেড মার্কিন অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাছাকাছি রয়েছে। জেরোম পাওয়েল প্রয়োজনে আবারো কাজ করার বিকল্পটি হাতে রেখেছেন। তার কারণ হিসেবে তিনি জানান, যেকোনো সময় পূর্বাভাসের বিপরীত হতে পারে।
এখন বিনিয়োগকারীরা ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি), ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, নর্জেস ব্যাংক এবং সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ টেইলর নুজেন্ট জানান, ইসিবি সুদহার স্থিতিশীল রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। জিডিপি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসের দিকে আরো মনোনিবেশ করা হবে। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, ইসিবি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমবে।
বুধবার দাম বাড়ার পরে ইউরো ১ ডলার ৯ সেন্ট ছিল। প্রতি স্টার্লিং সর্বশেষ ১ ডলার ২৬ সেন্টে বিনিময় হয়েছে।
নর্জেস ব্যাংক (নরওয়েজিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক) একমাত্র সুদহার বাড়াতে পারে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) মুদ্রাবাজারে সুইস ফ্রাঁর জন্য একটি পরিবর্তন আনতে পারে। জাপানি ইয়েন রাতারাতি ডলারের তুলনায় শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
বিওজে ১৮-১৯ ডিসেম্বর তার মুদ্রানীতি সভায় সুদহার নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে—এমন প্রত্যাশার কারণে গত সপ্তাহে জাপানি মুদ্রার বিনিময় হার বেড়েছিল।










