যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (ইউএডব্লিউ) তিনটি ডেট্রয়েট কারখানায় একযোগে ধর্মঘট শুরু করেছে। তিনটি অটোমেকার কারখানা হচ্ছে ফোর্ড, জেনারেল মোটরস (জিএম) ও স্টেলান্টিস। এটিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন শিল্প শ্রমিক তৎপরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
ধর্মঘটের কারণে তিনটি অটোমেকার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কাজ বন্ধ আছে। ইউএডব্লিউ প্রেসিডেন্ট শন ফেইন জানান, ইউনিয়ন আপাতত সাধারণ ধর্মঘট বন্ধ রাখবে। তাকে তারা জানায়, নতুন চুক্তিতে সম্মত না হলে তারা অন্য ব্যবস্থা নেবে। ফেইন ফেসবুক লাইভে জেনারেল মোটরস, ফোর্ড ও স্টেলান্টিস হরতালের পরিকল্পনা জানায়। ফেইন বলেন, ‘আমরা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিগ থ্রির তিনটিতেই ধর্মঘট করব।’
ধর্মঘটে ফোর্ড, জিএম, স্টেলান্টিসের জিপ ব্র্যান্ডের মোট ১২ হাজার ৭০০ কর্মী অংশগ্রহণ করে। এর আগে ডেট্রয়েটের অটোমেকারের কাছ থেকে মজুরি ও সুবিধার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। কারণ হিসেবে জানায়, অটোমেকাররা এখনো সদস্যদের ন্যায্য চুক্তি দিতে পারেনি।
ইউনিয়ন জানায়, তারা চার বছরে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার সদস্যদের ৪০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর দাবি তুলেছে। এর আগে হোয়াইট হাউজ থেকে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফেইনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ফোনে কথা বলেছেন। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তবে জিএম ও ফোর্ড ২০ শতাংশ এবং স্টেলান্টিস ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। যদি এ ধর্মঘট দীর্ঘদিন ধরে চলে, তাহলে ডিলারদের গাড়ি সংকট হতে পারে। গাড়ির দাম বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্রমিক সংগঠন এএফএল-সিআইও সভাপতি লিজ শুলার বলেন, ‘পুরো বিশ্বের শ্রমিকরা এ আন্দোলন দেখছেন।’
এএফএল-সিআইওর অধীনে প্রায় ৬০টি ইউনিয়ন ফেডারেশন রয়েছে। এর সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ। যদিও এখন পর্যন্ত ইউনিয়নের সব সদস্য (১ লাখ ৪৬ হাজার) ধর্মঘটে অংশ নেননি।
এমনকি ফেইন ইউনিয়নের দাবিগুলোকে যুক্তিসংগত বলছেন। তিনি জানান, গাড়ি নির্মাতারা কোটি কোটি ডলার আয় করছেন এবং তাদের এ দাবিগুলো পূরণ করার সামর্থ্য রয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিবৃতিকে সমালোচনা করে বলেন, ‘শ্রমিকদের জন্য ব্যয়বহুল বন্দোবস্ত তাদের গাড়ির দাম বাড়াতে বাধ্য করবে, তবে যানবাহনের খরচের মাত্র ৪-৫ শতাংশের জন্য শ্রম দায়ী। তারা গাড়ির দাম না বাড়িয়েও আমাদের বৃদ্ধির পরিমাণ দ্বিগুণ করতে পারবে। এতেও তাদের মিলিয়ন ডলার লাভ থাকবে। সমস্যা আমরা না, সমস্যা করপোরেটদের লোভ।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। অনেকেই বলছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার সময় এসেছে।










