একসময় বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশের খ্যাতি ছিল থাইল্যান্ডের। কিন্তু নানামুখী চ্যালেঞ্জের কারণে ভারতের কাছে শীর্ষ রফতানিকারকের মুকুট হারায় দেশটি। সম্প্রতি দেশটি বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য ফিরিয়ে আনতে তত্পর হয়ে উঠলেও সংকট যেন পিছু ছাড়ছে না। বর্তমানে চাল বাণিজ্যে দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জাহাজ সংকট। খবর রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক বাজারে থাই চালের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ চালের ঊর্ধ্বমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণে বেসরকারিভাবে প্রধান খাদ্যশস্যটি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। হ্রাস করা হয়েছে আমদানি শুল্কও। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে চাহিদা থাকলেও জাহাজ সংকটের কারণে দেশটির চাল রফতানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে জাহাজ সংকটের কারণে থাইল্যান্ডে রফতানি চালের দামে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম টনপ্রতি ৩৯০-৪০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি টন চালের দাম ছিল ৩৯০-৪০০ ডলার।

ব্যাংককভিত্তিক একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জানায়, সম্প্রতি থাই চাল সাশ্রয়ী হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা বাড়ছে। তবে থাইল্যান্ডের বন্দরে চাল পরিবহনের জাহাজ না থাকায় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন রফতানিকারকরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে থাইল্যান্ডের চালের যে বাজারদর তাতে ক্রেতারা আগ্রহী হচ্ছেন। কিন্তু বন্দরে চাল সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত জাহাজ নেই।

চলতি বছরের শুরু থেকেই থাইল্যান্ডের চাল রফতানিতে নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত আছে। প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) দেশটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার টন চাল রফতানি করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি কমেছে ২২ শতাংশ।

বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। তবে গত বছর কয়েক দফা বন্যায় দেশের চাল উৎপাদন খাতে বিপর্যয় নেমে আসে। এ কারণে বাড়ানো হয় চাল আমদানি। বেসরকারি ব্যবসায়ীরা ১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি লাভ করেন।

ঢাকাভিত্তিক একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জানায়, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় বাংলাদেশ বেশির ভাগ চালই ভারত থেকে আমদানি করবে। দেশের বাজারে তীব্র চাহিদা থাকায় ভারতের ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন। এছাড়া ভারত থেকে আমদানিতে পরিবহন ব্যয় ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের তুলনায় কম। পাশাপাশি সড়কপথেই দেশটি থেকে আমদানি করা যায়। স্থলবন্দরগুলো দিয়ে এরই মধ্যে ভারতীয় চাল বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

ভারত বৈশ্বিক চাল রফতানিতে প্রথম। দেশটির ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চালের দাম বেড়ে টনপ্রতি ৩৫৮-৩৬৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত সপ্তাহেও পণ্যটির দাম ছিল টনপ্রতি ৩৫৫-৩৬০ ডলার। মূলত চাহিদা ও রুপির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী।