সীমিত দায় কোম্পানি ও আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত পরিচয় জানানোর নিয়ম করে নতুন আইনের ঘোষণা আগেই দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই আইন কার্যকর হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ডাটাবেজে শেল কোম্পানির সুবিধাভোগী ও আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত পরিচয় অবশ্যই জমা দিতে হবে। সেখানে এরই মধ্যে এক লাখ সংস্থা তাদের তথ্য জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন। খবর এপি।
নতুন বছরে ডাটাবেজ চালু করার বিষয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি ভার্জিনিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অধীন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের (ফিনসেন) দপ্তর পরিদর্শন করেন জ্যানেট ইয়েলেন।
সেখানে আসন্ন আবাসন নীতিমালা সম্পর্কে কথা বলেছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি। যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদ ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও সংস্থাগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ভার্জিনিয়া সফরের উদ্দেশ্য হলো করপোরেট স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং শেল কোম্পানিগুলোর অপব্যবহার রোধে বাইডেন প্রশাসনের অভিপ্রায় তুলে ধরা।
জ্যানেট ইয়েলেন বলেছেন, ‘এক লাখ সংস্থা একটি নতুন ডাটাবেজে যোগ দিয়েছে, যা শেল কোম্পানির মালিকদের মুখোশ উন্মোচনে সরকারি প্রচেষ্টার অংশ।’
চলতি সপ্তাহে তিনি আরো জানিয়েছেন, ট্রেজারি বিভাগের নতুন এ ডাটাবেজ সুবিধাভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করে যে বার্তা দিতে চায় তা হলো যুক্তরাষ্ট্র নোংরা অর্থের আশ্রয়স্থল নয়।
ফিনসেন সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে জ্যানেট ইয়েলেন জানিয়েছেন, সুবিধাভোগী মালিকানার তথ্য অপরাধীদের গ্রেফতার করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করবে। এছাড়া অপরাধীদের বিচার করা এবং অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতেও সাহায্য করবে।
এর আগে ২০২১ সালে দ্বিপক্ষীয় করপোরেট ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট স্বাক্ষর হয়, যা সুবিধাভোগী মালিকানার ওপর নতুন নিয়ম প্রণয়নে ট্রেজারি বিভাগকে ক্ষমতা দিয়েছে। এক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি থেকে বেশির ভাগ মার্কিন সংস্থাকে অবশ্যই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের মালিক কিংবা নিয়ন্ত্রণকারী সম্পর্কে শনাক্তকরণ তথ্য প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এ নিয়মের আওতায় ২০ জনের কম কর্মীসহ বেশির ভাগ মার্কিন ব্যবসার প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ কোম্পানিকে নিবন্ধন করতে হবে।
২০২২ সালের নভেম্বরে ন্যাশনাল স্মল বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ডাটাবেজের ওপর ট্রেজারির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। সে সময় যুক্তি দেয়া হয়েছিল নতুন রিপোর্টিং নিয়ম মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করে। এছাড়া এটি ছোট কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে গোপনীয়তা ও বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা লঙ্ঘন করে। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার জন্য রাজ্যগুলোর ক্ষমতাও লঙ্ঘন করে। এ বিষয়ে একজন বিচারক দ্রুত সিদ্ধান্ত দেবেন বলেও আশা করা হয়।
জ্যানেট ইয়েলেন জানান, ব্যবসার ডাটাবেজের পাশাপাশি বাণিজ্যিক আবাসন খাতের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করছে ট্রেজারি বিভাগ।
অর্থ পাচারের জন্য আবাসন খাত একটি বড় বাহন। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির প্রাক্কলন অনুসারে, ২০১৫-২০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাতের মাধ্যমে ২৩০ কোটি ডলার পাচার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অস্বচ্ছ শেল কোম্পানি নিবন্ধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও মাদক কারবারিদের অর্থ পাচার এবং তা আড়াল করে রাখার বিষয়টি উন্মোচন হয়।
পানামা পেপারস, প্যারাডাইস পেপারস ও প্যান্ডোরা পেপারসে এ ধরনের অনেক কেলেঙ্কারি উন্মোচন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শেল করপোরেশন হচ্ছে এমন ধরনের কোম্পানি, যেগুলোর কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম থাকে না। মূলত কর ফাঁকি, সম্পদের তথ্য গোপন ও আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করতে এসব কোম্পানি সহায়ক ভূমিকা রাখে। নতুন ট্রেজারি আইনের আওতায় এ ধরনের কোম্পানির মালিকানা বা যাদের ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে অথবা ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য হারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকারীদের তথ্য সরবরাহ করতে হবে।










