সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ভারতের মধ্যে গত বছর কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সই হয়। ওই চুক্তির পর উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এরই মধ্যে ৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্যানুসারে, ভারতের সঙ্গে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাত থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ইউএইর। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
সাম্প্রতিক বাণিজ্য তথ্য প্রকাশের পর সিইপিএর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউএইর বৈদেশিক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী থানি বিন আহমেদ আল জিয়াদী।
ইউএইর অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের সাময়িক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের মে থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সিইপিএর প্রথম ১২ মাসে দ্বিপক্ষীয় জ্বালানি তেলবহির্ভূত বাণিজ্য ৫ হাজার ৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
সাম্প্রতিক বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিইপিএর কার্যকারিতার প্রশংসা করে উভয় মন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য পারস্পরিক আরো জোরালো অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এরপর তারা ইউএই-ভারত যৌথ কমিটির উদ্বোধনী বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। চুক্তির প্রথম বার্ষিকীতে এ চুক্তির প্রভাব মূল্যায়ন, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা, শুল্ক ও বাণিজ্য কোটা নীতি সংস্কার ও সংশোধনের সুপারিশের ব্যাপারে যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিগত এক বছরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি সম্পর্কে আল জিয়াদী এ বৈঠকে বিবৃতি দেন। ইউএইর শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের শিল্প উন্নয়ন বিভাগের সহকারী উপসচিব আবদুল্লাহ আল শামসি যৌথ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। কেননা এর গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইউএই ও ভারতের মধ্যকার সিইপিএ একটি নমনীয় নথি হিসেবে সাজানো হয়েছে। এর মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তিত অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। এ চুক্তির অর্থনৈতিক প্রভাব বোঝার পাশাপাশি উভয় পক্ষের অভিজ্ঞতা বুঝতে এবং উভয় দেশ সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে যৌথ কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকটি উভয় দেশের মধ্যে আস্থা ও স্বচ্ছতা প্রদর্শন করে, যা আমাদের নিজ নিজ ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে সক্ষম হবে।’
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, ‘সিইপিএ ইউএই ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে, আরো বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়াতে এবং বেসরকারি খাতের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ চুক্তির ফলে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন বেড়েছে।’
পাশাপাশি ভারত ও ইউএইর বাজারে বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য একাধিক অর্থনৈতিক উদ্যোগেরও পর্যালোচনা করেন তিনি।
২০২২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ইউএই ও ভারতের মধ্যে সিইপিএ সম্পন্ন হয়, যা কার্যকর হয় ওই বছরের ১ মে। এটি উভয় দেশের মধ্যকার প্রথম দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এবং নতুন বৈদেশিক বাণিজ্য কর্মসূচির একটি ভিত্তি। এ চুক্তিতে ৮০ শতাংশেরও অধিক পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানো হয়েছে।










