বিশ্ববাজারে গতকাল কিছুটা কমেছে তেলের দাম। একই সঙ্গে প্রধান বেঞ্চমার্কগুলো টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো লোকসানের দিকে অগ্রসর হয়েছে। পুরো বাজারই এখন তাকিয়ে চীনের বাজারের দিকে। অর্থাৎ, চীনের বাজারে তেলের চাহিদা বাড়লে তা গোটা বিশ্ববাজারের জন্যই ইতিবাচক হবে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত উপাত্তে দেখা গেছে, ফিউচার মার্কেটে আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ অপরিশোধিত ব্রেন্টের দাম ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ৮১ ডলার ৮৩ সেন্ট। এদিকে ফিউচার মার্কেটে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টামিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ ডলার ৫১ সেন্ট। চলতি সপ্তাহে দুই ধরনের জ্বালানি তেলেরই দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীনের চাহিদা বাড়ার একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া এখন বাজারের ওপর পড়তে শুরু করেছে।
বাজার বিশ্লেষক এএনজেড বলছে, চীনা নববর্ষের ছুটিকে কেন্দ্র করে চীনের ১৫টি বড় শহরে পর্যটন বেড়ে যাওয়ায় তেলের চাহিদায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। কিন্তু এটাও উল্লেখ্য, চীনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা এখনো তুলনামূলক কম। অর্থাৎ, সে চাহিদা এখনো বাজারে যুক্ত হয়নি।
কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর চীনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা তেলের বাজারকেও তুলনামূলক জাগিয়ে তোলে। এর সঙ্গে ডলারের মান কিছুটা কমে যাওয়ায় অন্য দেশগুলোর মুদ্রার মানে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যার কারণে অনেক দেশেই ভোগ্যপণ্যের বাজার কিছুটা ভালো অবস্থায় এসেছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে ডলারের পতন হয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার পরও অন্য বড় অর্থনীতির দেশগুলোয় সুদহার বৃদ্ধি অব্যাহত।
বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সাচদেব বলেন, ‘২০২৩ সালে সুদহার বাড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে। ফলে অর্থনৈতিক মন্দা ও বৈশ্বিক জ্বালানির চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের চাহিদা কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে, আগামীকাল থেকে রুশ পরিশোধিত পণ্যের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এটিও বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলবে। এর আগে গত সপ্তাহে ইইউ প্রস্তাব করেছিল, ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার ডিজেলের মতো তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়া যেতে পারে। কিন্তু সদস্য দেশগুলো এ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছতে পারেনি। এ বিষয়ে কী ফলাফল আসে, সেদিকেও তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা।










