বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদার পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক। গতকাল এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখবে। আর আগামী বছর কমতির দিকে থাকতে পারে। খবর রয়টার্স। 

প্রতিবেদনে ওপেক জানায়, চলতি বছর জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা দৈনিক ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছবে। আগামী বছর তা কমে দৈনিক ১৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল হবে। গত মাসেও ওপেক বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদার একই পূর্বাভাস দিয়েছিল। 

প্রতিবেদনে ওপেক আরো জানায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্যবহার প্রত্যাশার চেয়ে কমেছে। তবে এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ভ্রমণ ও পর্যটনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে। এ সময় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ২৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 

এদিকে মার্কিন আর্থিক পরিষেবা সংস্থা গোল্ডম্যান স্যাকস সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বাড়তি চাহিদার কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক ১৩ লাখ ব্যারেল ঘাটতিতে পড়তে পারে বিশ্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বেশ কিছুদিন ধরেই সুদ হার কমানোর কথা বিবেচনা করছে। এ সিদ্ধান্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে লম্বা সময় ধরেই উত্তোলন কমাচ্ছে ওপেক প্লাস। কয়েক দিন আগেও এ সংস্থা জ্বালানি তেল উত্তোলন আরো কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওপেক প্লাসের বৈঠকে আগেকার বিভিন্ন উত্তোলন হ্রাসের ঘোষণার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া, কাজাখস্তান ও মেক্সিকো জ্বালানি তেলের সামগ্রিক উত্তোলন প্রতি মাসে দৈনিক ৪০ হাজার ব্যারেল কমিয়ে ৪ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে মে মাসে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন এ সংস্থার মিত্র দেশগুলো জ্বালানি তেল উত্তোলন আগের মাসের তুলনায় দৈনিক ১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কমিয়ে চার বছরের সর্বনিম্নে নামিয়ে এনেছে। এ দেশগুলো ওপেক প্লাসের বেঁধে দেয়া কোটার তুলনায় দৈনিক গড়ে ২৫ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে। এক জরিপে এসব তথ্য জানিয়েছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস।

অন্যদিকে ওপেকভুক্ত নয়টি দেশ বেঁধে দেয়া কোটা থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়িয়েছে। এপ্রিলে দেশগুলো দৈনিক ২ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছিল। মে মাসে তা বেড়ে দৈনিক ২ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। ইরান, লিবিয়া ও ভেনিজুয়েলা ওপেক প্লাসের চুক্তির অধীনে উৎপাদন কোটা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে মে মাসে অতিরিক্ত ২০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন করেছে।

ওপেক প্লাসের চুক্তির বিপরীতে একটি সদস্যদেশ কোনো মাসে অতিরিক্ত উত্তোলন করলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেশটিকে পরের মাসে একই হারে উত্তোলন কমাতে হয়। মে মাসে ইরাক এ ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও এ সময় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দৈনিক ৪০ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়িয়েছে ইরাক। মে মাসে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ ছিল দৈনিক ৪২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল।