চীনে তামার দাম বেড়ে সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধাতুটির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এবং ডলারের নিম্নমুখী দাম এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে গতকাল জুলাইয়ে সরবরাহের জন্য চুক্তিকৃত তামার দাম আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৬৭ হাজার ৯২০ ইউয়ান (৯ হাজার ৪৭৮ ডলার ৪৯ সেন্ট), যা ২৫ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।

চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্বল্পমেয়াদি ঋণের ব্যয় কমিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়। বিষয়টি শিল্প ধাতুটির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একই কারণে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাস সরবরাহের জন্য চুক্তিকৃত তামার দাম এক মাসের সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে। দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৮ হাজার ৪৪৮ ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রে গত মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম মূল্যস্ফীতি ছিল ওই সময়। এর প্রভাবে ডলারের বিনিময় মূল্য কমে তিন সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমেছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশা করছেন, ফেডারেল রিজার্ভ নতুন করে সুদহার বাড়াবে না। বিষয়টি তামায় বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করবে।

মে মাসে চীনের তামা আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। দেশটির শুল্ক বিভাগ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। 

চীন বিশ্বের শীর্ষ তামা ব্যবহারকারী দেশ। চলতি বছর কভিড-১৯ সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ায় দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশ চাঙ্গা হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি না ঘটায় তামার চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় উৎপাদনও ঊর্ধ্বমুখী।

জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, মে মাসে চীন ৪ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টন অগঠিত তামা ও তামাপণ্য আমদানি করেছে। ধাতুটি মূলত অবকাঠামো নির্মাণ, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহার হয়।

চীন সরকার গত মাসে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে এ খাতে তামার ব্যবহার বাড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ কারণে কেবল ও ওয়্যার উৎপাদন বেড়েছে। অন্যদিকে টিউব, রড ও ফয়েল উৎপাদন কমেছে।

শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে তামা আমদানি দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪০ হাজার টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম। আমদানি কমে যাওয়ায় ধাতুটির বাজারদরে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে গত মাসে তামার দামে সবচেয়ে বড় পতন পরিলক্ষিত হয়েছে।