দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা ১৬ দিন পর গতকাল সিকিউরিটি লেনদেন ৮০০ কোটি টাকার নিচে নেমেছে। এদিন ডিএসইর সার্বিক সূচকও কমেছে। সাম্প্রতিক বাজার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৯ জানুয়ারির পর থেকে পুঁজিবাজারের দৈনিক লেনদেন ৮০০ কোটি টাকার ওপরে ছিল। এর মধ্যে ১২ দিনই ১ হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন ছিল। 

ডিএসইতে গত ৩০ জানুয়ারি ৯৩৯ কোটি টাকা, ৩১ জানুয়ারি ৯৭৯ কোটি, ৪ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১১২ কোটি, ২ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫৮০ কোটি, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৬৫৪ কোটি, ৬ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৬৫১ কোটি, ৭ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৭৩০ কোটি, ৮ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৮৫৭ কোটি, ১১ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৮৫২ কোটি, ১২ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৬৯৩ কোটি, ১৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৬৪৬ কোটি, ১৪ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৭৩ কোটি, ১৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৭৪ কোটি, ১৮ ফেব্রুয়ারি ৯২৪ কোটি, ১৯ ফেব্রুয়ারি ৮১৮ কোটি ও সর্বশেষ গতকাল ৭৬৪ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। 

গতকাল দিন শেষে ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ২৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬ হাজার ২৫৯ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইর নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সামান্য বেড়ে ২ হাজার ১৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে প্রায় ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৩৬১ পয়েন্টে। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল রেনাটা, বীকন ফার্মা, আফতাব অটোমোবাইল, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ১৮৪টির, কমেছে ১৬৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪২টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ২ শতাংশ দখলে ছিল বস্ত্র খাতের। ১০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ৫ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। খাদ্য খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে কাগজ ও মুদ্রণ, বস্ত্র, পাট ও সিরামিক খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল ভ্রমণ, সেবা, চামড়া ও মিউচুয়াল ফান্ড খাত।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সূচক ও লেনদেন নিম্নমুখী ছিল। এক্সচেঞ্জটির নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ২২ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৭৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১০ হাজার ৭৭৪ পয়েন্টে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ৪০ পয়েন্ট কমে ১৭ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৭ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৬৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ১২৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ১৩ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৯ কোটি টাকা।