রাশিয়ায় গত বছর রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা রোস্ট্যাট এ তথ্য জানিয়েছে। পাশাপাশি রফতানি নিয়েও আশাবাদী সংস্থাটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঊর্ধ্বমুখী আবাদ ও ফলনের কারণে উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে দেশটির খাদ্যশস্যের চাহিদাও বেশি।
সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়া সব মিলিয়ে ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করেছে। ২০২১ সালের তুলনায় উৎপাদন ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের শেষ দিকে রোস্ট্যাট ১৫ কোটি টন উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে উৎপাদন। খাদ্যশস্যের মধ্যে শুধু গম উৎপাদনের পরিমাণই দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৪৪ লাখ টনে।
গত বছরের আগে রাশিয়া ২০১৭ সালে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন করেছিল। উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টন।
প্রাথমিক উৎপাদনের পরিমাণ নিয়ে গত মাসে রাশিয়ার কৃষিমন্ত্রী দিমিত্রি পাস্ত্রুশেভ বলেন, ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। প্রতি হেক্টরে ৩৪ কুইন্টাল শস্য উৎপাদন হয়েছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। রোস্ট্যাট বলছে, গত বছর দেশটিতে খাদ্যশস্যের আবাদও ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর কয়েক ধাপে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রিতে জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে দেশটিকে। তবে প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশের তকমা ধরে রাখতে সক্ষম বলে প্রত্যাশা দেশটির খাতসংশ্লিষ্টদের।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত ১৫ ডিসেম্বর এক সরকারি বৈঠকে বলেন, গত পাঁচ মাসে রাশিয়া প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করেছে। চলতি কৃষিবর্ষে রফতানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে পাঁচ কোটি টনে। শিল্প বিশ্লেষকদের ধারণা, রফতানি আরো বেড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার কৃষিপণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।










